
প্রাইমা হোসেন
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা অত্যন্ত স্পষ্ট। একটি সরকার ক্ষমতায় বসার পর যদি দেশে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাকে আবেগ নয়, বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। আর সেই বাস্তবতার নাম হল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ। বিএনপির সরকার যদি সত্যিকার অর্থে স্বস্তিতে থাকতে চায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল হতে চায়, তাহলে শত্রুতা কিংবা আক্রোশ নয়, শেখ হাসিনা ইস্যুতে সমঝোতার মাধ্যমে আসতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
প্রথমত, শেখ হাসিনা কেবল একটি দলের নেত্রী নন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের স্থপতি, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, এবং কোটি কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিদ্যুৎ, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের রূপকার তিনিই। তাঁকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি কল্পনা করা যায় না। তাঁকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার যে কোনো ষড়যন্ত্র অতীতে ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।
দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন, সবচেয়ে বৃহৎ ও সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দল। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার – প্রতিটি অধ্যায়ে এই দলের রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রাম মিশে আছে। এই দলকে দমন করে, নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে কখনোই দেশে শান্তি আনা যাবে না। বরং সংঘাত আরও বাড়বে।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক মহল আজ বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো চায় বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র। একটি বৃহৎ দলকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন বা সরকার আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। বিএনপি যদি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চায়, তাহলে তাদেরকে সমঝোতার পথে হাঁটতেই হবে।
চতুর্থত, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করবে না, যদি দেশে প্রতিদিন হরতাল, অবরোধ, সংঘাত চলে। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতে দ্বিধা করবে, যদি দেশ অশান্ত থাকে। এই অশান্তি দূর করার একমাত্র উপায় হলো রাজনৈতিক সমঝোতা। শেখ হাসিনাকে সম্মানের সাথে রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দিলে, আওয়ামী লীগকে সভা-সমাবেশ করার অধিকার দিলে দেশে স্বস্তি ফিরে আসবে।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, সমঝোতা মানে কী? সমঝোতা মানে আত্মসমর্পণ নয়। সমঝোতা মানে জাতীয় স্বার্থে এক টেবিলে বসা। সমঝোতা মানে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা। সমঝোতা মানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সকল হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা।
বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আজ যারা ক্ষমতায়, কাল তারা বিরোধী দলে থাকতে পারে। প্রতিহিংসার রাজনীতি করলে সেই প্রতিহিংসার আগুন একদিন নিজেদেরকেই পোড়াবে। তাই সময় থাকতে সুবুদ্ধির পরিচয় দেওয়া উচিত।
আমরা প্রবাসে বসে দেখছি, বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়। তারা আর সংঘাত চায় না। তারা চায় উন্নয়ন, তারা চায় কর্মসংস্থান, তারা চায় নিরাপত্তা। এই শান্তি একমাত্র সমঝোতার মাধ্যমেই আসতে পারে।
অতএব, বিএনপির সরকারের প্রতি আমার স্পষ্ট আহ্বান – স্বস্তিতে থাকতে চাইলে, দেশকে স্বস্তিতে রাখতে চাইলে, শেখ হাসিনা ইস্যুতে সমঝোতায় আসুন। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যারা সমঝোতা করে, ইতিহাস তাদের মনে রাখে। যারা প্রতিহিংসা করে, ইতিহাস তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে।