ওঙ্কার বাংলা : কলকাতার বুকে এক অভাবনীয় চিন্তাধারা তুলে ধরলো আর্ট এন্ড ক্রাফট এক্টিভিটি স্কুল শিল্পাঙ্গন। বিশেষভাবে সক্ষম কলাকুশলীদের হাতের কাজ ও অঙ্কন নিয়ে আয়োজন করা হয় চিত্র প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে এই চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন হয়। তিন দিনব্যাপী এই চিত্র প্রদর্শনী চলবে।
গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী সুপর্ণানন্দ মহারাজ ও বেলুড় মঠের স্বামী বোধাসরানন্দজী মহারাজের প্রদীপ উজ্জ্বলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয় এই চিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে বিশেষভাবে সক্ষম বাচ্চাদের হাতের কাজ ও হাতের আঁকা ছিল দেখার মত। এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখে বিশেষভাবে সক্ষম কলাকুশলীদের উৎসাহিত করেন অতিথিরা। গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী সুপর্ণানন্দ মহারাজ বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের উৎসাহিত করতে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন “এদের কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে আনন্দ পাওয়া যায়। এদের জন্য যারা কাজ করছে তাদের আমি স্যালুট জানাই।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দ রায় ও রক সংগীত শিল্পী সস্ত্রীক রূপম ইসলাম। সংশোধনাগারের বন্দীদের নিয়ে গীতিনাট্য তৈরি করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন অলোকানন্দ রায়। এবার বিশেষভাবে সক্ষমদের হাতের কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে বললেন…“ওদের থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ওদের মধ্যে কতটা প্রতিভা লুকিয়ে আছে সেটা ওরা নিজেরাও জানে না।” শিল্পাঙ্গন এর সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চিন্তাভাবনা দেখে স্যালুট জানায় বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী।
বিশিষ্ট রক সংগীত শিল্পী রূপম ইসলাম ও তাঁর সহধর্মীনী রূপসা দাসগুপ্ত বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের উৎসাহিত করে। রূপম ইসলাম শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেন…. “খুবই চোখের আরাম প্রাণের আরাম হচ্ছে। সবাই এখানে স্পেশাল তাদের পারদর্শিতার জন্য। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।”
অসাধারণ এই চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন শিল্পাজ্ঞনের কর্ণধার সমীর ও সোমা কুণ্ডু। বিগত কয়েকবছর ধরে কলকাতার নানা জায়গায় এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানালেন সোমা কুণ্ডু। তিনি আরো জানান বাচ্চাদের কাজ সবার সামনে নিয়ে আসতে পেরে অনেক খুশি সমা কুন্ডু। ৮০ জন বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা এই প্রতিষ্ঠানে ক্লাস করে। বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের থেরাপির জন্য অনেক খরচা তাই শিশুদের পাশাপাশি মায়েদের কাজ শেখানো হয় এই প্রতিষ্ঠানে। ভবিষ্যতে তাদের হাতের কাজ বিক্রি ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও করছে এই প্রতিষ্ঠান।
আগামী দিনে আর্ট এন্ড ক্রাফট এক্টিভিটি স্কুল শিল্পাঙ্গন বাচ্চাদের নিয়ে আর নিত্যনতুন চিন্তাধারা মাধ্যমে নানা কাজ করার পরিকল্পনা করছে। শিল্পাঙ্গনের সমস্ত বাচ্চাদের ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রচেষ্টায় চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানটি ছিল বেশ জমজমাট।
