ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালে সেনাবাহিনীর ভেতরেও দলবাজি হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন সেনার একাংশ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সেই অভিযোগ পর্যালোচনায় ন’সদস্যের কমিটি গঠন করল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল হাফিজকে। কমিটিতে বাংলাদেশ বিমান ও নৌবাহিনীর প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ অগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার আমলে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর বহু অফিসার ও জওয়ান কর্মজীবনে বঞ্চিত হয়েছেন। বিশেষত যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখেই কমিটি সুপারিশ পেশ করবে। সরকার জানিয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে কমিটিকে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সেনাবাহিনীর একাংশের সঙ্গে হাসিনার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও আস্থায় আঘাত করতেই ইউনুস সরকার এই কমিটি গঠন করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের দিন সেনার বিমানেই শেখ হাসিনাকে দিল্লি পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে নিরাপদে দেশ ছাড়তে দেওয়ায় সেনাবাহিনীর ভেতরেই ক্ষোভ জমে।
কৃতজ্ঞতাবশত হাসিনা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় এগারো মাস প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সেনার গুলিতে পাঁচ আওয়ামী লীগ কর্মীর মৃত্যুর পর তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে বঞ্চিত সেনাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বাহিনীর সঙ্গে হাসিনার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে চাইছে ইউনুস সরকার।
