ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের ব্যস্ততম স্টেশনের মধ্যে কলকাতার হাওড়া অন্যতম। ২৩টি প্ল্যাটফর্মে দিনে ৬০০টিরও বেশি ট্রেন চলাচল করে। প্রায় ১০ লাখ মানুষ হাওড়া স্টেশনকে বেছে নেয় যাতায়াতের জন্য। সেই চাপ সামলাতে প্রায় হিমশিম খেতে রেল কতৃপক্ষকে। সেই চাপ সামলাতে এবার হাওড়া স্টশনের পরিপুরক স্টেশন হিসাবে শালিমার স্টেশনের আধুনিকিকরণ করার কাজ শুরু করা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে।
শালিমার স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নির্মানের কাজ আগে থেকে নির্ধারিত হয়েছিল। এবছর ডিসেম্বর মাসেই শুরু হচ্ছে স্টেশন আধুনিকিকরণের কাজ। রেল কতৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শালিমার স্টেশনে মোট ২টি প্ল্যাটফর্ম বাড়ানো হবে আপাতত। পাশাপাশি দুরপাল্লার ট্রেন চলার জন্য তৈরি করা হবে আধুনিক ডিজিট্যাল ব্যাবস্থাপনা। টয়লেট, বিশ্রামাগার বানানো হবে যাত্রী সুবিধার্থে। যাত্রী সুরক্ষায় বসানো হবে সার্ভেলেন্স। এসক্ল্যালেটরের ব্যাবস্থাও করা হবে। পাশাপাশি, স্টেশনের ফুটব্রিজ গুলি সংযোগ করা হবে সব প্ল্যাটফর্ম গুলির সঙ্গে।
শালিমার স্টেশনের সহকারী এলাকা ব্যবস্থাপক জয়নাথ শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে শালিমার থেকে ট্রেন ছাড়তে দেরি হলে আপ লাইনের ট্রেনকে সাঁতরাগাছিতে দাঁড় করাতে হয়, ফলে সময়সূচিতে গন্ডগোল ঘটে। নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। বর্তমানে শালিমার স্টেশন থেকে প্রায় ২৮টি ট্রেন বিভিন্ন রুটে যাত্রা করে ঝাড়খণ্ড, মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, পুরী, পাটনা ও বিশাখাপত্তনমের মতো শহরে। উৎসবের সময় চলাচল করে বিশেষ ট্রেনও। ডিসেম্বরের পর শালিমার থেকে আরও দীর্ঘ রুটের একাধিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দৈনন্দিন যাত্রীদের পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীরাও উপকৃত হবেন।
রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শালিমার স্টেশনকে ধীরে ধীরে একটি সম্পূর্ণ স্যাটেলাইট টার্মিনালে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নতুন স্টেশন ভবন, আধুনিক ওয়ার্কশপ, সাবওয়ে, সার্কুলেটিং জোন এবং পার্কিং স্পেস তৈরি করা হচ্ছে। এতে শুধু হাওড়া নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব রেল ডিভিশনের ট্রেন চলাচলের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। শালিমারের এই সম্প্রসারণ প্রকল্প কার্যকর হলে হাওড়া স্টেশনের যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ট্রেন চলাচলের সময়সূচিও আরও নিয়মিত হবে।
