ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বিজেপি নেতা ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যকে ঘিরে। বুথ লেভেল অফিসারদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্যকে ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই অভিযোগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি এক জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যে সব বিএলওরা নিয়ম মেনে কাজ করবেন না, তাদের জেলে পাঠানো হবে।” তৃণমূলের দাবি, এই মন্তব্যে সরকারি কর্মীদের প্রতি ভয় দেখানো হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিজেপি নেতার এই বক্তব্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাজের উপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করছে।
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অরূপ বিশ্বাস বলেন, “বিএলওরা নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ কর্মী। তাঁদের কাজ হল ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোট প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। কিন্তু বিজেপি নেতা ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের ভয় দেখাচ্ছেন। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।” তিনি আরও জানান, “রাজ্যে মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। শুভেন্দুর মতো নেতারা যদি প্রকাশ্যে হুমকি দেন, তাহলে তার প্রভাব ভোট প্রস্তুতির উপর পড়বেই।”
অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, শুভেন্দু কেবলমাত্র বিএলওদের দায়িত্ব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন, যাতে ভোটার তালিকার কাজে কোনও অনিয়ম না হয়। তাঁদের মতে, তৃণমূল অযথা বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিতে চাইছে।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে আগামী নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক কর্মীদের উপর ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি’-এর অংশ বলেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়া চলাকালীন এমন মন্তব্য রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিতর্ক তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। কমিশন জানিয়েছে এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পত্র জমা পরেনি। তবে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের কপি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। রাজ্যে ভোটের আগে বিজেপি ও তৃণমূলের এই দ্বন্দ্ব নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
