ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্যে নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যেসব ভোটারের নাম তথাকথিত ‘নো-ম্যাপিং’ তালিকায় রয়েছে, তাঁদের শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার থেকে নোটিস পাঠানো শুরু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই ও সংশোধনের কাজ আরও জোরদার করা হবে।
সূত্রের খবর, চলতি সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে সরাসরি বা পারিবারিক সূত্রে মিলিয়ে দেখা যায়নি। এই কারণেই তাঁদের ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এই ধরনের অমিল ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে নিজেদের পরিচয় ও বাসস্থানের তথ্য প্রমাণ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নোটিসে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানির নির্দিষ্ট দিন, সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। নোটিস পাওয়ার পর ভোটারদের সাত দিনের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, বাসস্থানের প্রমাণ বা অন্য কোনও সরকারি নথির মাধ্যমে নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করার সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হলে বা সন্তোষজনক নথি জমা না পড়লে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য কোনও যোগ্য ভোটারকে বাদ দেওয়া নয়, বরং ভুয়ো বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে থাকা নামগুলি চিহ্নিত করা। আগামী নির্বাচনের আগে একটি নির্ভুল ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কমিশন জানিয়েছে, শুনানি ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবং সমস্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও দেখা যাচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস, যোগ্য ভোটারদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
