ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার এনুমারেশন পর্ব শেষ হয়েছে ১১ ডিসেম্বর। আগামী ১৬ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে। কমিশন সূত্রের খবর, শুনানি পর্বে রাজ্যের প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে ডাকা হবে। আধার কার্ড ছাড়া যে নথিগুলি এসআইআর এর জন্য গ্রহণযোগ্য, সেই নির্দিষ্ট নথি নিয়ে তাঁদেরকে হাজিরা দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছেন ৫৮ লক্ষ ৮ হাজার ২০২ জন। বাদের তালিকায় যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন মৃত, স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজ ভোটার। তবে খসড়া তালিকাতে এই পরিসংখ্যানে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। রিপোর্ট অনুসারে, রাজ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন। নিখোঁজ ভোটার রয়েছে ১২ লক্ষ ১ হাজার ৪৬২ জন। কোনও ভোটারের বাড়িতে বিএলও তিন বার যাওয়ার পরে তার খোঁজ না পেলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে নিখোঁজ ভোটার বলে চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া, ঠিকানা বদলে ফেলেছেন রাজ্যের মোট ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৭ জন ভোটার। একাধিক এলাকার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল। ফলে একটি জায়গায় নাম রেখে বাকি জায়গা থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘ভুয়ো’ ভোটার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৭৫ জনকে। ‘অন্যান্য’ তালিকাভুক্ত হওয়া ৫৭ হাজার ৫০৯ জনের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে।
কমিশন সূত্রের খবর, ভোটারদের মোট তিনটি বিভাগে ভাগ করেছে কমিশন— নিজস্ব ম্যাপিং, প্রজিনি ম্যাপিং এবং নন-ম্যাপিং। নিজস্ব ম্যাপিংয়ের তালিকায় রয়েছেন ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা। রাজ্যে এমন ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৮৮ জন। প্রজিনি ম্যাপিং হচ্ছে যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, কিন্তু তাঁদের বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম রয়েছে। এই ধরণের ভোটার রয়েছেন ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৩৯ জন। আর নন ম্যাপিং ক্যাটেগরির আওতায় পড়ছেন প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটার। তাঁদের নিজেদের নাম বা আত্মীয়ের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই। তাঁদেরকেই কমিশনের তরফে শুনানিতে ডাকা হবে। এ ছাড়া নিজস্ব ম্যাপিং, প্রজিনি ম্যাপিং এর আওতাভুক্ত কোনও ভোটারের নথি নিয়ে কমিশনের সন্দেহ হলে তাঁদেরকেও ডাকা হতে পারে।
