ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে শুরু হয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী কর্মসূচি, সংক্ষেপে এসআইআর। প্রথম দিনেই সারা রাজ্যে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ১৮ লক্ষ ফর্ম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে দিচ্ছেন।
রাজ্য নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পর্যায়ে শুধুমাত্র ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহের কাজ চলছে। কোনও ভোটারকেই এখনই কোনও নথি দেখাতে হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে নাগরিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে, যদি দেখা যায় কোনও ব্যক্তির নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, সেক্ষেত্রে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চালানো হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। ততদিন পর্যন্ত বিএলও, ইআরও ও ডিইও স্তরের কর্মীদের পূর্ণ সময় ধরে এই কাজ করতে হবে। প্রতিটি বুথে যাতে ফর্ম বিতরণ নির্বিঘ্নে হয়, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকেও বুথ এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। তবে অনেক জায়গায় তারা এখনও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেননি বলে জানা যাচ্ছে। তবুও নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, কর্মসূচির প্রথম দিনেই যে পরিমাণ ফর্ম বিতরণ হয়েছে, তা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রস্তুতির দৃঢ়তা প্রমাণ করে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি কলকাতাতেও ফর্ম বিতরণের কাজ জোরকদমে চলছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই পর্যায়ে মূল উদ্দেশ্য হল নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি ও পুরনো তথ্য সংশোধন করা। নাগরিকদের সচেতন করে অংশগ্রহণ বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলিতে নথি যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হলে কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে, বিশেষত যেখানে ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আপাতত কমিশনের নজর রাজ্যজুড়ে এই বৃহৎ কর্মসূচি যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং আগামী নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা আরও সঠিক ও হালনাগাদ করা যায়।
