স্পোর্টস ডেস্ক: মুম্বই আতঙ্ক ফের কাটাতে ব্যর্থ কেকেআর। ওয়াংখেড়েতে ১৯ তম আইপিএলে নিজেরদের প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এর কাছে ধরাশায়ী কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রত্যাশা মতই ডুবিয়ে দিল বোলিং স্কোর বোর্ডে ২০০ রানের উপর তুলেও জয় পেলো না টিম শাহরুখ। ২২০ রান তুলেও শেষরক্ষা হল না কলকাতা নাইট রাইডার্সের। রোহিত শর্মার বিস্ফোরক ইনিংসে ভর করে ১৯.১ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৩ রান তুলে ম্যাচ জিতে নিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হার্দিক পান্ডিয়া। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। ফিন অ্যালেনের সঙ্গে প্রথম উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়ে তোলেন তিনি। অ্যালেন ১৭ বলে ৩৭ রান করে ফিরলেও রাহানের ব্যাট চলতে থাকে। ৪০ বলে ৬৭ রান করে আউট হন তিনি।২২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলে মুম্বই। অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং রায়ান রিকেলটনের ব্যাটে ওয়াংখেড়ে সাক্ষী থাকে এক বিধ্বংসী ওপেনিং জুটির। প্রথম উইকেটেই ১৪৮ রান যোগ করে ম্যাচ কার্যত মুঠোয় নিয়ে নেন দুই ওপেনাররোহিত ৩৮ বলে ৭৮ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে ম্যাচ মুম্বইয়ের দখলে। রিকেলটন ৮১ রান করে রান আউট হন, যদিও নিশ্চিত শতরান হাতছাড়া করেন। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নেমে সূর্যকুমার যাদব ৮ বলে ১৬ রানের ক্যামিও খেলেন।

কলকাতার ফিল্ডিংয়ের ভুলও বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। রিকেলটনের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন রমনদীপ ও বৈভব। সেই সুযোগের পুরো ফায়দা তোলে মুম্বই। শেষ পর্যন্ত পাঁচ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে তারা।
এই জয়ের সঙ্গে একাধিক রেকর্ড গড়ে ফেলল মুম্বই। ২২০ রান তাড়া করে আইপিএলে এই প্রথম জয়, পাশাপাশি ২০১২ সালের পর প্রথমবার মরশুমের উদ্বোধনী ম্যাচ জিতল তারা।এই হারের পরে কেকেআর অধিনায়ক আজিঙ্ক রাহানে বললেন,’এই হার মেনে নেওয়া কঠিন। ২২০-২২৫ জয়ের জন্য যথেষ্ট ভেবেছিলাম। তবে দলের বোলারেরা অনভিজ্ঞ এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। মুম্বইয়ের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং বিভাগ থাকা দলের বিরুদ্ধে খেলা সমস্যার। এই ম্যাচ আমাদের কাছে শিক্ষা। বৈভব ছাড়া, কার্তিক এবং মুজ়ারাবানির সে ভাবে আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। মুম্বই খুব ভাল ব্যাট করেছে।”ক্যারণ গ্রিনকে বল না করানোর কারণ জিজ্ঞাসা করা হতেই রাহানে বলেন, “এই প্রশ্নটা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন। আমি বলতে পারব না। তবে দলের ব্যাটারদের নিয়ে আমি খুশি। কার্তিক (ত্যাগী) ভাল বল করেছে। অনেক দিন পর খেলতে নেমেছিল। ভালই খেলেছে। অনেক কিছু শিখলাম ম্যাচটা থেকে।”
রাহানের কথা শুনেই বোঝা গিয়েছে, গ্রিনের বল করার উপর অস্ট্রেলিয়া বোর্ডের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তিনি অ্যাশেজ এবং টি-২০বিশ্বকাপেও সে ভাবে বল করেননি। তা হলে কেন ২৫ কোটি টাকা দিয়ে তাঁকে কেনা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও রাহানে পরে বলেছেন, “আশা করি দ্রুত গ্রিন বল করা শুরু করবে। তখন প্রথম একাদশ অন্য রকম হবে। এই মুহূর্তে আমরা দলে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছি। যারা ভাল বল করতে পারে তাদেরই দলে নেওয়া হয়েছে।