স্পোর্টস রিপোর্টার : বয়স বাড়লে অন্য খেলোয়াড়রা মন্থর হয়ে যান, রিফ্লেক্স কমে যায়, রান-আপের গতি কমে যায়, ফিল্ডিংয়ে ক্ষিপ্রতা আগের মতো থাকে না, ব্যাটিংয়ের দক্ষতাতেও মরচে পড়ে। কিন্তু বিরাট কোহলির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা দেখা যাচ্ছে। বয়স যত বাড়ছে ততই যেন আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন এই কিংবদন্তি।
২০০৮ সাল থেকে আইপিএল-এ খেলছেন বিরাট। ১৮ বছর পর রবিবার আইপিএল ফাইনালে ব্যক্তিগত দ্রুততম অর্ধশতরান করলেন এই তারকা ব্যাটার। এদিন তিনি ২৫ বলে অর্ধশতরান পূরণ করেন। এর আগে ২০১৮ সালে তিনি রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ২৬ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন। আট বছর পর তার চেয়ে কম বলে অর্ধশতরান পূরণ করলেন বিরাট। এদিন ৪২ বলে ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকলেন বিরাট। তাঁর ইনিংসে ছিল নয়টি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার-বাউন্ডারি। বেঙ্গালুরুর অন্য কোনও ব্যাটার অর্ধশতরান করতে পারেননি। ওপেন করতে নেমে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করে ম্যাচের শেষপর্যন্ত ক্রিজে থেকে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন বিরাট। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হল আরসিবি।
আইপিএল-এর ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে পরপর দু’বার চ্যাম্পিয়ন হল আরসিবি। প্রথম দল হিসেবে এই নজির গড়ে চেন্নাই সুপার কিংস। এরপর সেই নজির স্পর্শ করে মুম্বই ইন্ডিয়ানস। এবার আরসিবি-কে এই নজির গড়তে সাহায্য করলেন বিরাট। ফাইনালে টস হেরে গুজরাট প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে, জবাবে আরসিবি ১৮.০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬১ রান করে লক্ষ্য পূরণ করে। বিরাট কোহলির নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা, আর দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স মিলিয়ে এ দিন যেন একেবারে একতরফা হয়ে ওঠে ফাইনাল ম্যাচ। ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিয়ে কোহলি বলেন, “সত্যি বলতে, স্বপ্ন দেখছি মনে হচ্ছে। অনেক বার এই মুহূর্তটার কল্পনা করেছি যে, আমরা ট্রফি জিতেছি এবং জয়ের শট আমার ব্যাট থেকে এসেছে। আসলে যে দল রয়েছে তাতে যে কোনও সময়েই আত্মবিশ্বাসী থাকা যায়। ক্রিকেট এখন এমনই হয়ে গিয়েছে যে তরুণ ক্রিকেটারেরা প্রতি মুহূর্তে ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে। প্রতি মুহূর্তে আরও ভাল খেলার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।”
তার আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে কোহলি বলেন, “আমি ছেলেদের বলেছিলাম, গত বারের মতো চাপ এ বার নেই। আমরা জানতাম এই দল কী করতে পারে। আমরা লিগে শীর্ষে শেষ করেছিলাম। কী ভাবে খেলেছি সেটা সকলেই দেখেছে। আমরা একটাই কথা নিজেদের মধ্যে বলেছিলাম, যদি নিজেদের মতোই ক্রিকেট খেলতে পারি এবং পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারি তা হলে কেউ আমাদের হারাতে পারবে না। এই কারণেই গ্রুপ পর্বে আমরা এত ভাল খেলেছি। তা ছাড়া এই দলের দক্ষতা, মানসিকতা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা আজ সকলেই দেখতে পেয়েছে।”
এই দলকে নিয়ে কখনও কি সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। সঞ্চালক অ্যারন ফিঞ্চের প্রশ্নের উত্তরে কোহলি বলেন, “সত্যি বলতে বিরতির পর আমরা দুটো ম্যাচে ধাক্কা খেয়েছিলাম। একটা ম্যাচ হেরেছিলাম। আর একটায় মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে জিতেছিলাম। সেই সপ্তাহটা কঠিন গিয়েছিল আমাদের। কারণ আমরা লিগের শীর্ষে শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে জেতার পরেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলাম। তার পর কেকেআরকে সহজে হারাই। শেষ পর্যন্ত লিগেও সকলের আগে শেষ করেছি।”

দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে নিয়ে খুশি। বিশেষ করে গোটা মরসুমে যে ভাবে সকলে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছিলেন, সেটাই খুশি করেছে কোহলিকে। বলেছেন, “অসাধারণ খেলেছে গোটা দল। এত বছর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু এই দলটা একত্র হওয়ার পর এখন মাঠে নামলে এটা মনে হয় না যে আমাকেই জেতাতে হবে। আমি জানি যে পিছনে এবং পাশে বাকিরা রয়েছে যারা দলকে জেতাতে পারে। এতগুলো ক্রিকেটার ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়েছে। হেজ়লউড, ভুবনেশ্বর, ডাফির মতো বিশ্বসেরা বোলারেরা দলে রয়েছে। ক্রুণালের উপর বরাবর ভরসা করা যায়। এ বার রাসিখ দার অসাধারণ খেলেছে। ব্যাটারেরাও নিজেদের মতো অবদান রেখেছে। ভারসাম্য থাকা এই দলটার অংশ হতে পেরে খুব খুশি। এখন আমরা অলরাউন্ড দল। তাই জন্যই মাঠে নামলে আলাদা আত্মবিশ্বাস থাকে।”গতবছর জয়ের পরে ঘটে গিয়েছিল দুর্ঘটনা। ট্রফি জয়ের প্যারেডে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ সমর্থক। আহত হয়েছিলেন অনেকে। ট্রফি জয়ের আনন্দ নিমেষে পরিণত হয়েছিল মর্মান্তিক ঘটনায়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও তা ভোলেননি রজত পতিদার।
তাই ২০২৬ সালে আই পি এলে চ্যাম্পিয়ন হয়েও রজত সেই জয় উৎসর্গ করলেন পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত সমর্থকদের। তিনি বলেন, ‘গত বছরের মর্মান্তিক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারকে এই জয় উৎসর্গ করতে চাই।’