স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে হিউস্টন স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে, রাউন্ড অফ ৩২-র হাইভোল্টেজ লড়াইতে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল বনাম জাপান । সেই ম্যাচেই ২-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নিল ব্রাজিল। কার্যত, জাপানের মরণপণ লড়াইয়ের সামনে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত জয় সেলেকাওদের। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও হিউস্টনের মাঠে জাপানকে ৯৬ মিনিটের মার্টিনেলির গোলে ২-১ ফলে হারিয়ে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টারফাইনালে গেল ব্রাজিল। স্যানোর গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না জাপানের অনভিজ্ঞতার কারণে। তাঁদের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু নিশ্চয়ই বুঝলেন আগাগোড়া অতিরক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে, বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট ব্রাজিলকে ঘাড়ে চেপে বসার সুযোগ করে দিয়ে তিনি ঠিক করেননি। তার খেসারত দিয়ে ম্যাচ হারলেন, ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে এগোনোর পথ করে দিলেন। জাপান যে বিশ্বকাপের মঞ্চে ছোট দলই রয়ে গেল, সেটা এর প্রমাণ।
খেলার শুরুতে বিশ্বের ফুটবল বিশেষজ্ঞদের চোখে ব্রাজিল যে ফেবারিট ছিল সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেটাই স্বাভাবিক। এর আগে ১৪ বার জাপানের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। তার মধ্যে ১১ বারই জয় পায় সেলেকাওরা। জাপান মাত্র একবার। ২ ম্যাচ ড্র। গতবছর অক্টোবরে টোকিওতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জাপান। প্রতিআক্রমণ নির্ভর ফুটবলই জাপানকে ২৯ মিনিটে এগিয়ে দেয় ম্যাচে। ব্রাজিল মাঝমাঠের ফুটবলারদের আলগা ভাবের সুযোগে দানিলোর পা থেকে বল কেড়ে নেন জাপানের স্যানো। বল ধরে গতি বাড়িয়ে ক্যাসেমিরোকে পিছনে ফেলে ব্রাজিল বক্সের সামনে পৌঁছে ডানপায়ে গড়ানো জোরালো শট নেন তিনি। সেই বল ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসনের বাড়ানো হাতের নাগাল এড়িয়ে ডানদিকের পোস্টের কোন ঘেঁষে জালের ভেতর জড়িয়ে যায়। গ্যালারিতে থাকা জাপানের সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন নিজের দলকে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এগিয়ে যেতে দেখে।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে সাজঘরে যান ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। কথায় আছে বড় কোচেরা বিরতিতে নিজেদের রোজগার বাড়ান। অর্থাৎ নিজের দলের ভুল ত্রুটি শুধরে দল নামান গুছিয়ে নিয়ে। ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তিওর কৌশলও সেটাই প্রমাণ করল। প্রথমার্ধের শেষে চোট পেয়ে খোড়াচ্ছিলেন পাকুয়েতা। আনসেলোত্তিকে তাঁকে বসিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নামিয়ে দেন নবীন তারকা এন্ডরিককে। একইসঙ্গে বিরতিতে সাজঘরে ব্রাজিল ফুটবলারদের বাড়তি আক্রমণাত্মক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেটাই দেখা গেল ব্রাজিলের খেলায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর মিনিট থেকে। আক্রমণের চাপ বাড়াতে জাপান কোনঠাসা হয়ে পড়ে।
দ্রুত পাস খেলে বারবার জায়গা বদলে ব্রাজিলের ফুটবলাররা জাপান বক্সে পৌঁছে আঘাত হানা শুরু করতে গোলের মুখ খোলে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দানিলোর ক্রশে গুইমারেসের হেড রুখে দিয়ে জাপানের লিড ধরে রাখেন গোলকিপার সুজুকি। ৫৫ মিনিটে জাপান গোল হজম থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বাঁচে আবার। কাসেমিরোর হেড গোলকিপার সুজুকি আংশিক প্রতিহত করলে, তা জটলার মাঝে ব্রাজিলের ফুটবলারের গায়ে লেগে গোলে ঢোকার মুখে গোললাইন থেকে ফেরান জাপানের টোমিয়াসু। আক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে জাপান বক্সে। কতক্ষণ আর ঠেকিয়ে রাখা যায় ব্রাজিলকে শুধুমাত্র অতিরক্ষণাত্মক খেলে। সমতা ফেরানোর গোলটা ব্রাজিল পেয়েই যায় ৫৬ মিনিটে। গ্যাব্রিয়েলের তোলা বলে হেড করে জাপান গোলকিপার সুজুকিকে হার মানান ক্যাসেমিরো। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ব্রাজিল শিবির। হিউস্টনের গ্যালারিতে হলুদ জার্সির উন্মাদনার ঝড় ওঠে। ৫৯ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়র জাপানোর টোমিয়াসুকে পায়ের জাদুতে টলিয়ে দিয়ে শট নিলে জাপান গোলকিপার সুজুকি বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে বলে হাত লাগালে, সেই বল পোস্টে লেগে ফেরে। জাপান পিছিয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচে।

তবে ব্রাজিলকে শেষপর্যন্ত জয় এনে দিলেন সুপার সাব মার্টিনেলি ৯৬ মিনিটে গোল করে। জাপান রক্ষণের সামান্যতম ভুল থেকে বল পেয়ে যান গুইমারেস বক্সের মাঝে। তিনি মাপা বল বাড়ান বক্সের ভেতর বাঁদিকে দাঁড়ানো মার্টিনেলিকে। জাপানের দুই ডিফেন্ডারের মাঝে বল ধরে মার্টিনেলি কোনাকুনি শট নিলে তা গোলকিপার সুজুকির বাড়ানো হাতের নাগাল এড়িয়ে গোলে ঢোকে। এই গোলেই ব্রাজিল সমর্থকদের বিশ্বকাপ জেতার আশা জিইয়ে রেখে শেষ ১৬য় অর্থাৎ প্রিকোয়ার্টারফাইনালে গেল সেলেকাওরা।