ওঙ্কার ডেস্ক: রবিবার উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে স্কুল লেভেল সিলেকশন টেস্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে এই পরীক্ষায় বসেছেন প্রায় ২ লক্ষ ৪৬ হাজার প্রার্থী। মোট ৪৭৮টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর নবম ও দশম শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী, এবং ৬৩৬টি কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছিল পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষা মূলত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শূন্যপদ পূরণের জন্য।
পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে কমিশন। প্রতিটি প্রশ্নপত্রে আলাদা রাখা হয়েছে যাতে জালিয়াতি বা তথ্য ফাঁসের কোনও সুযোগ না থাকে। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক এবং পরীক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত দু’ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে পৌঁছতে বলা হয়েছিল যাতে সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা যায়।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট গোটা প্যানেল বাতিল ঘোষণা করেছিল। এর ফলে ঐ সেশনে চাকরিপ্রার্থীরা চাকরি হারান। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন। তাই এবারের পরীক্ষা শুধু চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নয়, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী সকাল থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছেন। অনেক জায়গায় পরিবার-পরিজনেরা তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে মানসিকভাবে ভরসা জুগিয়েছেন। অভিভাবক ও প্রার্থীদের আশা, এত কড়াকড়ি সুরক্ষা ও নজরদারির মধ্যে দিয়ে যে পরীক্ষা হচ্ছে, তা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে এবং দ্রুত ফল প্রকাশ পেলে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোবে।
