ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ নয় বছর পর পরীক্ষা নিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন চাকরিপ্রার্থী রবিবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তবে সব মিলিয়ে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন হল এদিন। তবে প্রশ্ন ফাঁসের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এসএসসি পরীক্ষায় এ বারে নতুন নিয়ম করেছে কমিশন। পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীরা এই প্রথম প্রশ্নপত্রের কপি সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি পরীক্ষা শেষে ওএমআর শিটের কার্বন কপিও তাঁরা হাতে পেয়েছেন।
রবিবার পরীক্ষা দিয়ে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র সহজ ও পছন্দসই হয়েছে। অনেকেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এবার হয়তো দুর্নীতির সুযোগ তেমন থাকছে না। যার মূল কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করছেন, পরীক্ষার্থীরা এবার যেহেতু প্রশ্নপত্রের কপি বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তাই এতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
যদিও পরীক্ষার্থীদের একাংশ দুর্নীতি নিয়ে সন্দেহ করছেন। ইন্টারভিউতে কিছু কারচুপি হবে না তো? এই প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ। রবিবার নবম-দশমে নিয়োগের পরীক্ষায় যে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পরীক্ষার্থী ভিন রাজ্যের। অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ, বিহার-সহ অন্যান্য রাজ্য থেকে তাঁরা এসেছেন। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০ শতাংশই বাংলার বাইরে থেকে আসা। স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগের জন্য পরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর। তার বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই জারি করেছে কমিশন। নবম-দশমে ২৩ হাজার ২১২টি এবং একাদশ-দ্বাদশে ১২ হাজার ৫১৪টি শূন্যপদে মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৭২৬টি পদে নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষা হবে।
অন্য দিকে চাকরি হারিয়ে আবার পরীক্ষায় বসতে হওয়ায় ক্ষুব্ধ যোগ্য চাকরিহারা প্রার্থীরা। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতর সৎ থাকলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। তবে প্রশ্নপত্র ও ওএমআর কপি হাতে পাওয়ায় অন্তত একটা বিষয় নিয়ে স্বস্তি মিলেছে প্রার্থীদের। তাঁদের প্রত্যাশা, এবার অন্তত সঠিক যোগ্যদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে।
