ওঙ্কার ডেস্ক: তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র। কিন্তু ২০০৭ সালে তাঁকে জেলে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কারাগারে প্রায় ১৮ মাস ছিলেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি দেন বিএনপি নেতা। বিলেতে সেই স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটানোর পর ১৭ বছর পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আবার নিজের দেশে ফিরলেন খালেদা-পুত্র।
পুরনো নথি ঘেঁটে জানা যায়, ২০০৭ সালে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন তারেক। প্রায় ১৮ মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। এর পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তিনি। খালেদা-পুত্রের উপর কারাগারে অত্যাচার করারও অভিযোগ সামনে আসে। তবে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর জল্পনা তৈরি হয়েছিল দেশটির সেনাকর্তাদের সঙ্গে রফা করেই বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে গিয়েছিলেন তারেক। এমনকি বিষয়টি নিয়ে নিজের লেখা বইতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। তাঁর ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ বইতে লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়া জেনারেলদের সাথে এই সমঝোতা করে থাকতে পারেন যে, তারেক রহমান আপাতত নিজেকে রাজনীতিতে জড়াবেন না। সেই মর্মে তারেক রহমান কোনেও সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরও দিয়ে থাকতে পারেন।’
যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও সম্মতি দেননি খালেদা কিংবা তারেক। বিষয়টি নিয়ে খালেদা জানিয়েছিলেন, পড়াশোনা এবং চিকিৎসার জন্যই তারেক লন্ডনে গিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হয়। সেই ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। সেই সময় খালেদা-পুত্রের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয়। ২০০৪ সালে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলা হয়েছিল যাতে মৃত্যু হয়েছিল ২৪ জনের। সেই বিস্ফোরণের ঘটনায় তারেক জড়িত ছিলেন বলে হাসিনার দল অভিযোগ করেছিল। কিন্তু তারেকের বিরুদ্ধের থাকা মামলাগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর।
