নিজস্ব সংবাদদাতা : বনগাঁর ঠাকুরনগরের মতুয়াবাড়ির অন্দরে বিজেপি। দাদা বিধায়ক, ভাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সুব্রত ঠাকুর আর শান্তনু ঠাকুরের বিবাদ নতুন নয়। দুজনেই আবার বিজেপির নেতা, দুজনেই দাদা-ভাই। তবে দুই ভাইয়ের এই বিবাদে বড় ছেলে সুব্রত ঠাকুরের পাশে দাঁড়িয়েছেন মা ছবিরানি ঠাকুর। শুধু তাই নয়, বড় ছেলে, গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্যা তৃণমূল সাংসদ তৃণমূল মমতাবালা ঠাকুর ও তাঁর বিধায়ক কন্যা মধুপর্ণা ঠাকুর।
তবে এইধরণের বিবাদ নতুন নয়। মাঝে মাঝে দুই ভাইয়ের কলহে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে ঠাকুরনগরের মতুয়াবাড়ি। কারনণও যে খুবই গূঢ় এমন নয়। তবু নানান অজুহাতে দুই ভাইয়ের কলহ দেখতে অভ্যস্থ ঠাকুরনগর। মিটেও যায় আপনা আপনি কিংবা পারিবারিক মধ্যস্থতায়। তবে এই কলহের মধ্যে এক্কেবারে ঢুকতে নারাজ রাজ্য বিজেপি। বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরে তাই মতুয়াবাড়ি নিয়ে চরম নীরবতা। এমন কি জানা গেছে, এই প্রসঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই প্রকাশ্যে কেউ রা কাটছেন না।
কলহের সূত্রপাত শনিবার। ওই দিন শান্তনুর অনুগামীরা নাটমন্দিরে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করে। তখনই আপত্তি তোলেন সুব্রত। পাল্টা শান্তনুর অনুগামীদের অভিযোগ, এই নিয়ে মতুয়া ভক্তদের হুমকি দিয়েছেন গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক। তিনি অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছেন, যেহেতু নাটমন্দিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়, সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচি করলে সমস্যা হতে পারে। তাঁর আপত্তি এখানেই বলে জানিয়েছেন সুব্রত ঠাকুর। যদিও একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনুর বিরুদ্ধেও ঠাকুরবাড়ির ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছেন দাদা তথা বিজেপি বিধায়ক। এই নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে গোলমাল রাজনৈতিক আকার নিয়েছে। শান্তনু জানিয়েছেন, “মন্ত্রী হওয়ার জন্য দাদা তৃণমূলে যোগ দেবেন”।
বিজেপির বনগাঁর সংগঠন পড়েছে বেশ ফ্যাশাদে। তাঁদের কথায়, রাজনৈতিক প্রয়োজনে তাঁদের দুজনকেই দরকার। তাই কোনো একজনের পাশে গিয়ে তাঁরা দাঁড়াতেও পারছেন না। রাজ্য কমিটির মতোই বনগাঁ জেলা বিজেপিও তাই মুখে কুলুপ এঁটেছে। তাঁদের বিশ্বাস, মতুয়াবাড়িতে এধরণের কলহ নতুন নয়। মাঝেমধ্যে হয়ে থাকে আবার থিতিয়ে পড়ে। তাই নিরপেক্ষ থেকে সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে চাইছে দলের স্থানীয় নেতারা। তাঁদের বিশ্বাস, কিছুদিন পর এই দ্বন্দ্ব মিটে যাবে। তাঁদের একটাই প্রত্যাশা, ভোটের আগেই যেন ভালয় ভালোয় সব মিটে যাক।
