কলকাতা: দেবীপক্ষ পড়তেই মহানগরে শুরু হয়ে গেল শারদোৎসবের কাউন্টডাউন। শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে রাজ্য সরকারের ‘উমা আগমনী’ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঢাক, নাচ-গান, ড্রোন শো আর আতশবাজিতে জমজমাট সন্ধ্যায় তৈরি হল নতুন ইতিহাসও। এক মঞ্চে ৩,০০০ ঢাকির একসঙ্গে বাজনা বাজিয়ে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলল কলকাতা।
অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্র ইডেন হলেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল গোটা চত্বরে। রেড রোড জুড়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সংস্কৃতি তুলে ধরে তৈরি করা হয়েছিল থিম শিবির। সেখান থেকে হেঁটে ইডেনের মঞ্চে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সহ বিশিষ্টজনেরা।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা দিয়েই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বক্তব্য রাখেন রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যসচিব। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, রাহুল সিনহা, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, ভারত সেবাশ্রম সংঘের বেলডাঙা শাখার কার্তিক মহারাজ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু-সন্ন্যাসীরা।
এদিনের মূল আকর্ষণ ছিল ৩,০০০ ঢাকির সমবেত বাদন। তাঁদের সঙ্গে মঞ্চ মাতান এক হাজারেরও বেশি নৃত্যশিল্পী। সঞ্চালিকা অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্র জানান, মহালয়ার দিনে এত সংখ্যক ঢাকির একসঙ্গে উপস্থিতি নজিরবিহীন। গিনেসের পক্ষ থেকে সেই স্বীকৃতির শংসাপত্র মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন মুখ্যসচিব। সন্ধ্যা নামতেই আকাশে শুরু হয় বিশেষ ড্রোন শো, আলোর খেলায় ফুটে ওঠে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গার রূপ। সঙ্গে ছিল আতশবাজির প্রদর্শনী। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শান্তনু মৈত্র, শান এবং দোহার ব্যান্ড।
তবে এই মেগা আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এই অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্য সরকার প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা খরচ করেছে। যদিও সরকারিভাবে খরচের হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। তৃণমূলের দাবি, গত বছর পর্যন্ত বিজয়া দশমীর পর রেড রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে যে কার্নিভাল হতো, তাতে খরচ হতো প্রায় ৫০ কোটি টাকা। সেই কার্নিভালে টলিউড তারকাদের ভিড় লেগে থাকত, এবার ইডেনের মঞ্চে তাঁদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বিপুল খরচের এই উৎসব সূচনা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।