ওঙ্কার ডেস্কঃ নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রচার মঞ্চ থেকে রাজ্যজুড়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। ডিক্টেড, ডিলিট আর ডিপোর্ট নীতি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। বাংলায় পালাবদল হতেই মুখ্যমন্ত্রী সেই নীতিতে সিলমোহর দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এবার গ্রাউন্ড জিরো-তে কার্যকর হতে শুরু করেছে। মুর্শিদাবাদের লালগোলায় তৈরি হওয়া হোল্ডিং সেন্টারে তিনজন বাংলাদেশিকে বন্দি করার খবর প্রকাশ হতেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। এই বিষয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।
নতুন সরকারের এই অ্যাকশনের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। সোমবার লালগোলার এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুণাল ঘোষ এবং বাবুল সুপ্রিয়। কুণাল ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ও ওঁর প্রশাসন মুখে একে যতই ভাল নামে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বলুক না কেন, এটা আদতে ‘ডিটেনশন সেন্টার’। আমরা প্রথম থেকেই এই ধরণের অমানবিক ও বেআইনি ডিটেনশন সেন্টারের তীব্র বিরোধিতা করে আসছি এবং আগামী দিনেও করব।”
শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রের সরকারকে এক যোগে তীব্র কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেতা বাবুল সুপ্রিয়ও। বাবুল বলেন, “স্রেফ সন্দেহের বশে বা গায়ের জোরে কীভাবে কাউকে এভাবে আটকে রাখা যায়? তাহলে সীমান্ত পাহারার নামে বিএসএফ এতদিন কী করছিল? এখন তো বিএসএফ-কে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত জমি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই মুহূর্তে তো কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই জায়গাতেই ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার চলছে! তাহলে এত ফাঁক গলে অনুপ্রবেশ হচ্ছে কী করে”?
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ৩ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে এনে কড়া পাহারায় আটকে রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই সেন্টারে বন্দি থাকা ৩ জনই পুরুষ এবং তাঁদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে তাঁদের সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় বা অন্য কোনও গোপন তথ্য এখনও সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি।