নিজস্ব সংবাদদাতা: ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু থেকে শেষ অবধি তাঁর বক্তৃতা জুড়ে ছিল বাংলার ভোটাধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি আর বিজেপির বাংলাবিরোধী রাজনীতিকে আক্রমণ।
বক্তব্যের শুরুতেই অভিষেক ফের স্মরণ করালেন সেই ৩২ বছর আগে শহিদ হওয়া যুব কংগ্রেসের ১৩ জন কর্মীর কথা। যাঁরা ভোটার আইডি কার্ড ইস্যুতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অভিষেক বললেন, “৩৩ বছর আগে ভোটাধিকার আদায়ের জন্য রক্ত দিয়েছে তৃণমূলের কর্মীরা। আজও সেই লড়াই করতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা মানা হবে না। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে তৃণমূল। দিল্লি পর্যন্ত কর্মসূচি গড়াবে।”
সম্প্রতি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্য টেনে অভিষেক বলেন, “আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন বাংলায় কথা বললে তাঁরা বাংলাদেশি! আমি বলছি, বাংলায় কথা বলুন। গর্ব করে বলুন, আপনি বাঙালি। এবার থেকে সংসদেও বাংলায় কথা বলব। আমরা বাংলার সন্তান।” বাংলাভাষীদের হেনস্তার প্রতিবাদে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, “বাংলার মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যেতে চায় বিজেপি। ২০২৬ সালের ভোটের পর বিজেপিকে ওই ক্যাম্পেই পাঠানো হবে। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা? বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে তাচ্ছিল্য, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা, রবীন্দ্রনাথকে বামপন্থী প্রোডাক্ট বলা এই হচ্ছে বিজেপির আসল চেহারা।”
‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “এখন বলছে জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা। ঠ্যালার নাম বাবাজি! ছাব্বিশের ভোটের পরে ওদের দিয়ে জয় বাংলা বলাব। এখন বিজেপিকে জয় শ্রী রাম বর্জন করতে হচ্ছে, এটাই আমাদের জয়।” তিনি স্পষ্ট বলেন, “বলেছিলাম বিজেপি ৫০ পেরোবে না। ২০২১-এ বলেছিলাম খেলা হবে। এবার বলছি, পদ্মফুল উপড়ে ফেলতে হবে। এবারে ওদের শূন্যতে নামিয়ে আনতে হবে।”
বক্তব্যে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। “একদিকে ইডিকে ব্যবহার করছে, আর একদিকে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দিচ্ছে। দুটো ই-কে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের দমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা মেরুদণ্ড বিক্রি করব না, আত্মসমর্পণ নয় গলা কেটে দিলেও মুখ থেকে জয় বাংলা বেরোবে।”
তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, “বিজেপিকে প্রথম বাংলাবিরোধী আমরা বলেছি। আমরা জনতার গর্জনের ডাক দিয়েছিলাম। সেটাই বিজেপির আসল চরিত্র প্রকাশ করেছে। ভোটার তালিকায় কারচুপি হলে রাস্তায় নামতে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে। বাংলা ভাষার অপমান সহ্য হবে না।”
অভিষেকের স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ, “যতই গোদি মিডিয়া, ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন থাকুক বাংলার মাটি দখল করতে পারবে না বিজেপি। বাংলায় কথা বললেই যদি বাংলাদেশি বলা হয়, তবে আরও জোরে বাংলায় কথা বলব। এবার থেকে সংসদেও বাংলায় কথা বলব, দেখব কার গায়ে কত জ্বালা।” শেষে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, “জনতার গর্জন, বাংলাবিরোধীদের বিসর্জন এটাই ২০২৬-এর স্লোগান। এবার থেকে ‘জয় বাংলা’ শুধু স্লোগান নয়, প্রতিজ্ঞা। বাংলার মানুষ মেরুদণ্ড বিক্রি করবে না। যতই চেষ্টা করুক, বাংলায় বিজেপিকে শূন্যতেই নামিয়ে আনা হবে।”
২১ জুলাইয়ের শহিদ মঞ্চ থেকে এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন, ভোট, ভাষা ও বাঙালিয়ানা এই তিনেই আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। ভাষা রাজনীতিতে মেতে উঠেছে কেন্দ্রের দলগুলিও। আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব কতটা পড়বে সেটাই এখন দেখার।
