ওঙ্কার ডেস্ক: বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে যখন নতুন সমীকরণের জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দলের একাংশের সাংসদ ও বিধায়কদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে তৃণমূলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দলের সাংগঠনিক কার্যকলাপ ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই দলের ভিতরে মতবিরোধের খবর সামনে আসছিল। দলের একাংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না এবং সংগঠনের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই অসন্তোষ ধীরে ধীরে সাংগঠনিক সংকটের রূপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা দাবি করছেন, তৃণমূলের আদর্শ ও রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তাঁরা নতুন করে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে পরিবর্তনের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব এই সমস্ত জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, কিছু ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। দল এখনও সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি ও কর্মী নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা রাখছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে বৈঠকে বসতে চলেছে। সেই বৈঠকের দিন যদি তৃণমূলের কোনও সাংসদ বা প্রভাবশালী নেতা প্রকাশ্যে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেন, তাহলে তা শুধু দলের জন্য নয়, গোটা বিরোধী শিবিরের জন্যও অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
দলের ভিতরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন সাংগঠনিক স্তরে রদবদল, নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়া এবং কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আগামী কয়েকদিন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের অসন্তুষ্ট অংশ নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটে নাকি আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে, তার উপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি। একই সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাবলি জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ফলে দিল্লির বৈঠক এবং তার আগে-পরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল, কর্মী-সমর্থক এবং পর্যবেক্ষকদের।