ওঙ্কার ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শামসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। নন্দীগ্রামে তমলুক-ঘাটাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বোমাবাজির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নির্বাচনের দিন নন্দীগ্রামের কাঞ্চননগর দিদারউদ্দিন হাই স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার এনআইএর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং পরিকল্পনায় কারা যুক্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্ত চলাকালীন একাধিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পর শামসুল ইসলামের নাম সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল এনআইএ। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এনআইএ সূত্রে দাবি, এই মামলায় আরও কয়েকজনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে। শামসুল ইসলামকে জেরা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই কারণে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হতে পারে।
শামসুল ইসলামের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে নিশানা করতে শুরু করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।