ওঙ্কার ডেস্ক : তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সম্প্রতি গুজরাটি সম্প্রদায় সম্পর্কে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তাই নিয়ে শোরগোল শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। অবশেষে ওই অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য বুধবার নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলো তৃণমূল কংগ্রেস। ওই মন্তব্যে তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুজরাটিদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মহুয়া মৈত্র বলেন, “বাঙালিরা গর্বিত জাতি। আমরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। গুজরাটিরা কোথায় ছিল ? কালাপানির ইতিহাস দেখুন। কালাপানিতে যারা নিহত ও কারারুদ্ধ হয়েছিলেন, তাদের প্রায় ৬৮ শতাংশই ছিলেন বাঙালি। তারপর ছিলেন পাঞ্জাবিরা। আপনারা কি আমাকে একজনও গুজরাটি দেখাতে পারবেন যিনি সেখানে ছিলেন ? কেবল আপনাদের নায়ক সাভারকর, যিনি ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন।”
তার এই মন্তব্য বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নির্বাচনী প্রচারে, বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গুজরাটি ভোটার রয়েছেন, সেখানে এই মন্তব্যগুলো নিয়ে ভোট প্রচারে ইস্যু করেন। ভবানীপুরের গুজরাটি সম্প্রদায়কে আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য আবেদন জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি গুজরাটিদের হয়ে ভোট প্রচারে গলা চড়ান। বলেন, যে এই সম্প্রদায় মহাত্মা গান্ধী এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে গর্বিত।
প্রসঙ্গত, ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী। তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা নন্দীগ্রাম থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই মাসের শেষের দিকে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য যে বুমেরাং হতে পারে তা বুঝতে পেরে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর বক্তব্যের নিন্দা ও ক্ষমা চাওয়ার জন্য ভবানীপুরের দলীয় কাউন্সিলর অসীম বসুকে মাঠে নামায়। অসীমবাবু তাঁর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া X-এ পোস্ট করা একটি ভিডিও বিবৃতির মাধ্যমে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। ভিডিওটিতে তিনি গুজরাটি সম্প্রদায়ের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চেয়ে দেওয়া একটি বিবৃতিও পড়ে শোনান। মমতার দেওয়া সেই ভিডিও বিবৃতিটি হল- “আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার গুজরাটি ভাই ও বোনদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি আপনাদের নিয়ে গর্বিত। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সাংসদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা এই মন্তব্যকে সমর্থন করি না। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।”
পরে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এবং বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী একটি সংবাদ সম্মেলনে মৈত্রর মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “আমি মহুয়া মৈত্রর এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করছি। এটা তার ব্যক্তিগত মতামত। আমাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী গুজরাটের সন্তান। আমরা কোনো ধরনের প্রাদেশিকতাবাদে বিশ্বাস করি না। অনেক বাঙালির কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক গুজরাটের সঙ্গে। তাই আমরা গুজরাট ও তার জনগণকে সম্মান করি।”