ওঙ্কার ডেস্ক : ভারতে শিক্ষার্থীদের চলতি আন্দোলনের পক্ষে মুখ খুললেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রতিনিধি রো খান্না। একইসঙ্গে তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদের দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতে শিক্ষার্থীদের যে প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে, তার প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। রো খান্না মার্কিন মুলুকের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। তিনি বার্নি স্যান্ডার্সের ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রচার কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। পেশাগত ভাবে তিনি একজন আইনজীবীও। ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের তিনি একজন মার্কিন প্রতিনিধি। তাঁর নির্বাচনী ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে সিলিকন ভ্যালির কিছু অংশ। আমেরিকার সদ্য অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রো খান্না রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ও উদ্যোক্তা রিতেশ ট্যান্ডনকে ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে ষষ্ঠবারের মতো জয়ী হয়েছেন।
এক্স-এ গৌরব সাবনিস নামে আমেরিকায় বসবাসরত এক শিক্ষাবিদ খান্নার কাছে এসব বিষয়ে তাঁর অবস্থান জানতে চান। সাবনিস তাঁকে প্রশ্ন করেন, “হিন্দুত্ব, আরএসএস এবং মোদির বিষয়ে আপনার অবস্থান স্পষ্ট করুন। আপনি নিজেকে প্রগতিশীল হিসেবে তুলে ধরেন, অথচ মোদির শাসনকালে ভারতে যা ঘটছে—রাজনৈতিক বন্দি থেকে শুরু করে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো—সে সম্পর্কে আপনি নীরব কেন?”
২০১৬ সালে প্রথমবার তিনি মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রগতিশীল কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত রো খান্না। ওই প্রশ্নের উত্তর তিনি লেখেন: “আমি হিন্দু জাতীয়তাবাদের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা করেছি এবং দুর্নীতিবিরোধী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসা শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ জানিয়েছি। আমার দাদা গান্ধীর স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ ছিলেন এবং আমি গান্ধী ও নেহরুর বহুত্ববাদী দর্শনে বিশ্বাসী।”
বুধবার আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ঘষিত হয়। সেখানে রিপাবলিকান পার্টিকে কোণঠাসা করে ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার। মার্কিন প্রতিনিধি সভা ও সিনেট—উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। অনেকের মতে, এটি ডোনাল্ড ট্রাম্প-পরবর্তী যুগের সূচনা করে। এর মধ্যে খান্নার এই প্রকাশ্য মন্তব্য ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের নীতি-নির্ধারক মহলের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেস—এবং দুই বছর পর হয়তো ডেমোক্র্যাট প্রশাসন নয়াদিল্লির প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে পারে বলে মনে কর ওয়াকিবহাল মহল।