মি. ভেটো
ধাক্কাটা যে আসতে চলেছে তা তা অকল্পনীয় ছিল না। তবুও হাল ছাড়তে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হয়তো ভেবে থাকবেন ভারতের মতো যদি কেন্দ্রীয় নির্বাচন ব্যবস্থা থাকতো তাহলে হয়তো পারমুটেশন কম্বিনেশনের একটা কথা ছিল। এমন একটা চেষ্টা যে তিনি করেননি তা নয়, কিন্তু সে দেশের বিচারব্যস্থায় তা ফলপ্রসূ হয়নি। এই দুর্দিনে তিনি বন্ধু মোদীর কথা স্মরণ করছেন কিনা তা বলা মুশকিল। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে সেই নিজের মেজাজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বাকি দু বছর ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্যে তাঁর হম্বিতম্বি কতটা চলবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যদিও, ইতিমধ্যে তাঁর ভেটোর যুযু মনে করিয়ে দিতে ছাড়েননি ট্রাম্প। কিন্তু ভেটো প্রয়োগ করে তিনি যদি একের পর এক ডেমোক্র্যাটদ প্রস্তাব আটকাতে থাকেন, তাহলে কি ইমপিচমেন্টের আশঙ্কা থাকছে না ? ভয়টা যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক্কেবারেই নেই, তা নয়। সেই সম্ভাবনার কথা স্বয়ং প্রেসিডেন্টই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন। একদিকে স্বভাবগত দম্ভ, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের আধিপত্য। সামনের দু বছর আমেরিকার প্রশাসন ও রাজনীতি যে আর একতরফা ভাবে চলবে না তা বিলক্ষণ বলা যায়। আমেরিকার সরকারের হয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেসই। নিম্নকক্ষ সেনেট এবং উচ্চকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মিলিয়ে কংগ্রেসের মোট সদস্যসংখ্যা ৪৩৫। এই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতে থাকে, সরকারের নীতিনিয়মও তারাই পরিচালনা করে। ট্রাম্প রিপাবলিকান। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য থাকায় নিজের ইচ্ছে মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করা যাবে। আনা যাবে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও। সংঘাতের ছায়া ইতিমধ্যেই পড়েছে মার্কিন কংগ্রেসে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার কথা বললেও ভেটোর যুযু দেখাতে ছাড়েননি ট্রাম্প। এখানেই উঠে আসছে আরেক সম্ভাবনার কথা, তা হল তেমন চলতে থাকলে কংগ্রেস ট্রাম্পের ভেটো উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে, তবে সেক্ষেত্রে দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন তাদের। বাণিজ্যনীতি থেকে জেফ্রি এপস্টিন ফাইলস, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে আর কোনও বাধা থাকছে না। ফলে আগামী দুবছর কী সত্যি উত্তপ্ত হতে চলেছে আমেরিকার রাজনীতি !