ওঙ্কার ডেস্ক: নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। পূর্বের সরকারের সময়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাংলার মা বোনেরা ১৫০০ টাকা করে পেত। সেই টাকা বেরে দাঁড়িয়েছে ৩০০০ টাকা। রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম পূরণ নিয়ে আমজনতার চিন্তা দূর করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলল। ১২ পৃষ্ঠার দীর্ঘ ফর্মে চাওয়া একগাদা নথির জেরে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হতেই এবার এই প্রক্রিয়া আরও সহজ করার কথা ভাবছে প্রশাসন। রাজ্যের নারী-শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সুবিধার্থে প্রয়োজনে এই ফর্মের সরলীকরণ করা হতে পারে এবং এই বিষয়ে তিনি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলবেন।
বেস কয়েকদিন ধরেই সমাজ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম। এই ফর্ম ১২ পাতা হওয়ার দ্রুন অনেকের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে। গত বুধবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ করার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সাইবার ক্যাফে এবং স্থানীয় সরকারি দফতরগুলিতে ফর্ম তোলার জন্য উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে ফর্ম হাতে আসতেই উপভোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ১২ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জমি-জায়গার দলিল, আধার কার্ড, প্যান কার্ড থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কের নথি-সহ যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ নথি জোগাড় এবং ফর্ম পূরণ কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে সর্বত্র। ফর্মের এই জটিলতা নিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, ‘মা বোনেদের কথা চিন্তা করে ফর্মের সরলীকরণ করা হবে, যাতে কনওরকম দুর্নীতি না হয় এই কারনে ফর্মে সমস্ত রকম তথ্য চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আপাতত আমরা আয়করের বিষয়টা দেখছি এবং বাকি ডেটাগুলো ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রহ করে রাখতে চাইছি। আমি মা-বোনেদের অনুরোধ করব, আপনারা ফর্মে কোনও অসত্য তথ্য দেবেন না। কারণ এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। ভুল তথ্য দিলে আপনারা চিহ্নিত হয়ে যেতে পারেন। আমরা চাইছি প্রকৃত গরিব মা–বোনেরা এই টাকা পান, তাই যিনি আবেদন করছেন শুধুমাত্র তাঁর ক্ষেত্রটাই যাচাই করা হবে।” ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, এই ফর্মের মাধ্যমেই আসলে রাজ্য সরকার নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার বা ডেটা সংগ্রহ করছে, আর সেই কারণেই ফর্মটি এত দীর্ঘ হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্মটি অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে।