ওঙ্কার ডেস্ক: এক মাসে ক্রমাগত ভাবে বেড়ে চলেছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য-র দাম। দশ দিনে কয়েক ধাপে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে উত্তরবঙ্গের বেসরকারি বাস মালিকদের। উত্তরবঙ্গের আট জেলায় প্রায় দুই হাজার ৮০০ বেসরকারি বাস রয়েছে। বাস মালিকদের দাবি, ডিজেলের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে তাতে ভাড়া না বাড়লে আগামী দিনে অর্ধেক বাস বসে যেতে পারে। অর্থাৎ, এক হাজার ৪০০ বাস রাস্তায় কমে যাবে। এসব বাসে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। জেলাগুলির ভিতরে থাকা রুটে মানুষের যাতায়াতের ব্যাপক সমস্যা হবে। এই পরিস্থিতিতে দিনকয়েক আগেই নর্থবেঙ্গল প্যাসেঞ্জার ট্রান্সপোর্ট ওনার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ডিজেলের উপর সেস কমানোর আবেদন জানানো হয়েছে। ডিজেলের সেস কমালে ও ভাড়া কিছুটা হলেও বৃদ্ধি হলে সাময়িকভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গের বাস মালিকরা বৈঠকে বসবেন বলেও জানা গিয়েছে। নর্থবেঙ্গল প্যাসেঞ্জার ট্রান্সপোর্ট ওনার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণবকান্তি মানি বলেন, ২০ মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে সেস কমানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করে দেওয়ার আবেদন করেছি। সেটা কীভাবে হবে তা রাজ্য সরকার দেখুক। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এখন যা পরিস্থিতি তাতে রোজ দুই হাজার ৮০০ বাসের মধ্যে চালানো যাচ্ছে ৪০০ বাস। এর ফলে রাস্তায় অপ্রতুল হতে চলেছে বাসের সংখ্যা।
অপর দিকে, রাস্তায় পাওয়া যায় না সরকারি বাস, এই অবস্থায় সমস্ত মানুষদের বে সরকারি বাসের ওপর ভরসা রাখতে হয়। এখন যা পরিস্থিতি তাতে রোজ দুই হাজার ৮০০ বাসের মধ্যে এক হাজার ৪০০ বাস চালাতে হবে। অর্থাৎ, একেকটি বাস একদিন অন্তর চালানোর চিন্তাভাবনা চলছে। জানা গিয়েছে, করোনার আগে উত্তরবঙ্গে তিন হাজার ২০০ গাড়ি রাস্তায় চলাচল করত। এখন তা কমেছে। কোচবিহার জেলায় বর্তমানে ৪০০-৪২০টি বেসরকারি বাস বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। ২০-২৫ শতাংশ বাস এখনই প্রতিদিন রুটে চালানো সম্ভব হয় না বলে বাস মালিকদের দাবি। এর ফলে বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের সমস্যা হচ্ছে। এদিকে, রাজ্য সরকার সরকারি বাসে মহিলাদের ভাড়া মকুব করেছে। এতেও বেসরকারি বাস চালানোর খরচের উপর ব্যাপক চাপ বাড়বে। উত্তরবঙ্গের বহু রুটে সরকারি বাস নেই বা তুলনামূলক ভাবে কম রয়েছে।