সন্তোষ কুমার মন্ডল, কাঁকসা : অজয় নদের উপর স্থায়ী সেতু তৈরি হওয়ার ফলে পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হল। সুবিধে হল উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যেও যোগাযোগের। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে কাঁকসার একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী নতুন সেতু তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু জমিজট সহ বিভিন্ন কারণে সেতু নির্মাণে বেশ কিছুটা সময় লাগলো। সেতুটি শিবপুর এলাকায় শুরু হয়ে ইলামবাজারের টিকরবেতায় শেষ হয়েছে। সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য ২.৭৩ কিলোমিটার। যার মোট খরচ ১৩৭ কোটি টাকা। ইলামবাজার হয়ে ঘুরে দুর্গাপুর মুচিপাড়া যেতে হলে কমপক্ষে ২৫কিলোমিটার রাস্তা বেশি যেতে হয়। এই সেতু চালু হলে মুচিপাড়া-শিবপুর রাস্তা ধরে শান্তিনিকেতন যাওয়ার দূরত্ব প্রায় ২২-২৫কিলোমিটার কমে যাবে।
সেতু উদ্বোধনে শিবপুরের দিকে দু’টি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। একটি মঞ্চে আধিকারিকরা আছেন। অন্যটি সাধারণ দর্শকদের জন্য। মঞ্চের ঠিক সামনেই এলসিডি স্ক্রিন রয়েছে। ইলামবাজার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হচ্ছে। সেতুর উপর ফলক উন্মোচন করল গ্রাম উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, মহকুমা শাসক সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হল। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “দুই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হল। দীর্ঘদিন ধরে কাঁকসার শিবপুর থেকে বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলী যাওয়ার জন্য অস্থায়ী ভাবে একটি বালি মাটি দিয়ে তৈরি সেতু নির্মাণ করা হত, বর্ষার সময় অজয় নদের জলে তা প্রতিবারই ভেসে যেত। সেই অস্থায়ী সেতু ভেসে যাওয়ার ফলে দুই জেলার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হত”।
এই পরিস্থিতিতে মাসখানেক ধরে যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেত। যদিও নৌকা পরিষেবা চালু করা হলেও বড় গাড়ি এবং বাস পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর দাবি ছিল, ওই জায়গায় একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ হলে দুই জেলার মানুষ উপকৃত হবে। কারণ বর্ষার সময় অজয় নদের জলের তোড়ে অস্থায়ী সেতু ভেসে যাওয়ার ফলে দুই জেলার মানুষকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হত। সেই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন দুই জেলার মানুষ। অবশেষে ২ জেলার মানুষের আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেইমতো গত কয়েক বছর ধরে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও কাঁকসার শিবপুরের দিকে জমি জটের কারণে থমকে গিয়েছিল কাজ। পরে প্রশাসনিক তৎপরতায় জমির মালিকদের সাথে কথা বলে সেই জমি জট কাটিয়ে শুরু হয় কাজ। ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলেও সেটি সময় মতো চালু করা যায়নি। কারণ এলাকার মানুষ ও দুই জেলার প্রশাসন চেয়েছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়েই এই ব্রিজের উদ্বোধন হোক। সেইমতো ব্রিজ উদ্বোধন করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার ব্রিজ পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসন।
দুই জেলার মানুষ জানিয়েছেন, ব্রিজ চালু হওয়ায় উভয় জেলার মানুষ সমস্যার থেকে মুক্তি পেল। এর ফলে দুই জেলার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে বলে তাঁদের আশা। এতদিন যে সমস্ত মানুষ নানান বাধা অতিক্রম করে রুজিরুটির জন্য দুর্গাপুর শহরে যেতেন, তাঁদেরও দুর্ভোগ মিটলো। এছাড়াও যে সমস্ত কলেজ পড়ুয়ারা দুর্গাপুর শহরের বুকে বিভিন্ন কলেজে পড়াশোনা করতো, তারাও সময়ের মধ্যে নিজেদের কলেজে পৌঁছতে পারবে। দুর্গাপুর শহরে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। ফলে উন্নত মানের চিকিৎসার জন্য বীরভূম মুর্শিদাবাদ বা মালদা থেকে যে সমস্ত মানুষ এতদিন ঘুর পথে দুর্গাপুরে পৌঁছতো তাদের ক্ষেত্রে অনেকটাই কম সময়ের ভেতরে দুর্গাপুরে পৌঁছানো সম্ভব হয়ে উঠবে বলে তারা জানিয়েছেন।
