ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সর্বোচ্চ পদ ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ বা ডিজিপি নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে নবান্ন। কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কঠোর নির্দেশের জেরে রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই দশজন সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকের একটি প্যানেল ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা ডিজিপি নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ পুলিশ পদে নিয়োগের আগে যোগ্য অফিসারদের নাম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউপিএসসির কাছে পাঠানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় পুরো বিষয়টি জটিল আকার নেয়। অভিযোগ ওঠে, সময়মতো প্রস্তাব না পাঠানোর ফলে একাধিক যোগ্য অফিসারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দেয় দ্রুত নামের তালিকা পাঠানোর জন্য।
সেই নির্দেশ মেনেই নবান্ন থেকে দশজন অভিজ্ঞ ও সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকের নাম সম্বলিত প্যানেল তৈরি করে ইউপিএসসির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই তালিকায় রাজ্য পুলিশের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিজিপির নামও থাকতে পারে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং তাঁর অবসরের সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।
এখন ইউপিএসসি এই দশজনের মধ্য থেকে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে তিনজনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে। সেই তিনজনের নাম রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে রাজ্যের হাতেই। অর্থাৎ, শেষ পর্যন্ত এই তিনজনের মধ্য থেকেই একজনকে বেছে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী ডিজিপি হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ডিজিপি না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক কাজে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নতুন ডিজিপি নিয়োগ হলে নেতৃত্বে স্থায়িত্ব আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে আরও গতি আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
