ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে কিছুটা নীরব থাকার পর ফের জনসভামুখী হয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে।
একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডল সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে এবং তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে শুভ নয়।
সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, প্রশাসনিক শক্তিকে ব্যবহার করে ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুর। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সাধারণ মানুষই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে।
রাজ্যে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পারদ ইতিমধ্যেই চড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, প্রশাসনিক বদল এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে। সেই আবহেই তাঁর এই সরব অবস্থান বিষয়টিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের এই বক্তব্য মূলত তৃণমূলের একাংশের অসন্তোষের প্রতিফলন। অন্যদিকে বিরোধী শিবির তাঁর এই মন্তব্যকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এভাবে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে অনুব্রত মণ্ডলের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার পর তিনি কিছুটা আড়ালে থাকলেও, ভোটের মুখে ফের তাঁর সক্রিয়তা এবং আগ্রাসী রাজনৈতিক ভাষ্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে তাঁকে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বাকযুদ্ধ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভোটের সামগ্রিক পরিবেশের উপর।