নিজস্ব সংবাদদাতা : ভবানীপুরে অমিত শাহ্ ও শুভেন্দু অধিকারীর রোড শো ঘিরে অশান্তির জেরে চার পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে পাঠানো রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি-টু) সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করে তদন্তের কাজ শুরু করতে হবে।
ওই নির্দেশে ৫ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে এই সাসপেনশন ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনকে। অপসারিত পদাধিকারিকের জায়গায় অবিলম্বে নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে কমিশনের নির্দেশে।
ভবানীপুরের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভর্ৎসনা করেছিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকেও। এরপরই নড়েচড়ে বসে লালবাজার। শোকজ করা হয় ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে। বুধবার ওই এলাকায় নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে ছিলেন এই দুই আধিকারিক।
ভবানীপুরের ঘটনায় শনিবার, রাজ্য বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালকে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ বিজিতাস্ব রাউথ এবং সাব-ইন্সপেক্টর রাহুল আমিন আলী শাহ-এর বিরুদ্ধে তাদের তথাকথিত পক্ষপাতমূলক ও আপোসমূলক ভূমিকার জন্য অপসারণের দাবি জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, “এটি নজরে এসেছে যে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ বিজিতাস্ব রাউথ এবং সাব-ইন্সপেক্টর রাহুল আমিন আলী শাহ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কল্যাণ কমিটির রাজ্য সম্মেলনে তাদের ‘অভিভাবক’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শাসক দল টিএমসি-র বিজয় নিশ্চিত করার জন্য পক্ষপাতত্বমূলক কাজ করছেন।”বিজেপি এই বিষয়ে রাজ্য সিইও-র কার্যালয়ে একটি ভিডিও-ও জমা দিয়েছে।
বিজেপি আরও বলেছে যে, কলকাতার ওই ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ৯ মার্চ ভারতের নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সামনে অভিযোগ করা হয়েছিল। তাতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওই চিঠিতে বিজেপি জানিয়েছে, “এটি উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়, ওই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে (বর্তমানে ডিসিপি) কোচবিহারে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেখানে বদলি করা হয়েছিল। এর ফলে তিনি সশরীরে এমন কোনো এলাকায় ছিলেন না যেখানে তখনও ভোটগ্রহণ বাকি ছিল। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সকল কর্মকর্তার, বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা এবং পক্ষপাতহীন কার্যকলাপের উপর নির্ভর করে।”
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানানোর পরেই এই ঘটনাটি সামনে আসে। শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগরওয়ালের কাছে জমা দেওয়া এক আবেদনে, তৃণমূল কংগ্রেস দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনের জন্য রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়ের নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানায়।