ওঙ্কার ডেস্ক: বঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে প্রথম বিজেপি সরকার। হাতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আর তাঁর পরেই ব্রিগেডে শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেবল মাত্র শুভেন্দু অধিকারী নয় একসঙ্গে শপথ বাক্য পাঠ করবেন বিজেপির গোটা মন্ত্রিসভা। সর্বত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। ৪ মে বাংলার রাজনীতিতে ঐতিহাসিক দিন। ওই দিন ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে কালবৈশাখী ঝড়ের মতো উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তারা। আর আজ সেই দলেরই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী যাঁরা যাঁরা মন্ত্রী হবেন, তাঁরাও আজ শপথ নেবেন। আর এই শপথগ্রহণে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমনকী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও হাজির থাকবেন। তাঁদের সামনেই হবে গোটা প্রক্রিয়া।
আর এই অনুষ্ঠানের জন্যই গত কয়েকদিন ধরে সাজছিল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। মাঠের মধ্যে গেরুয়া পতাকার ছড়াছড়ি। সকাল থেকেই সভ্য সমর্থকদের ভিড় রয়েছে মাঠে। পাশাপাশি শিয়ালদা এবং হাওড়া স্টেশনে কর্মী সমর্থকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। তাঁরা মিছিল করে মাঠে আসবেন বলেই জানা যাচ্ছে। বিজেপির তরফে জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও আজ আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। তৃণমূল জমানায় রাজনৈতিক কারণে বা ভোট-পরবর্তী হিংসায় যে সমস্ত বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন, তাঁরা আজ আসবেন। এছাড়া রাজ্যের সব ক্ষেত্রের মানুষেরাই আজ মাঠে থাকবেন বলে জানান হয়েছে। তাই এই দিকে একটু বাড়তি নজর থাকবেন। সারা দেশই ব্রিগেডের দিকে নজর রেখেছে। বিধান সভা নির্বাচনের অনেক আগেই থেকে বিজেপির নেতৃত্বরা মহাকরণ থেকে নতুন সরকার পরিচালনার কথা বলেছিলেন, সেই মত এই কয়েকদিনের মধ্যেই জেগে উঠেছে লাল দীঘির ওপারের লাল বাড়ি। এই লাল বাড়িতে শেষবার রাজ্য চালনা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ২০১৩ সালে শেষ বার রাজ্য চালনা করে সদর দফতর নিয়ে চলে গিয়েছিলেন গঙ্গা পাড়ের নবান্নে। যদিও সেই নবান্ন বাম আমলে তৈরি হয়েছিল। তখন এই নবান্ন বস্ত্র দফতরের অফিস হিসাবে ব্যবহার করার কথা হিয়েছিল। জানা যাচ্ছে, মহাকরণের ভিভিআইপি ব্লকের তিন তলার একটি অংশের কাজ অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। দোতলার যে ঘরে আগের মুখ্যমন্ত্রীরা বসতেন, তিন তলায় ঠিক তার উপরের ঘরটি তৈরি করা হচ্ছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। পূর্ত দফতরের ঠিকাদার কর্মীরা এখন কাজ করে যাচ্ছেন। বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার শপথগ্রহণ শেষে মহাকরণে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিন তলার ঘরটিতে ‘প্রতীকী’ ভাবে বসবেন। বার্তা দেবেন, আগামী পাঁচ বছর সেখান থেকেই পরিচালিত হবে রাজ্যের সরকার। তবে সংস্কারের কাজ শেষ না-হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর আপাতত বসার ব্যবস্থা হয়েছে বিধানসভায়। সচিবালয় আলাদা করে তৈরি হচ্ছে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বসবেন অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্যান্য বেশ কিছু জিনিস মাথায় রেখে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর যে ঘরটি রয়েছে, সেখানেই বসবেন শুভেন্দু।