ওঙ্কার ডেস্ক: ২০১১ সালে বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে সরকার গড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তিতে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। ১৫ বছর পর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার সরকারি বিজ্ঞাপন পেল সিপিএম মুখপত্র। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। সেই অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। গণশক্তির প্রথম পাতায় একেবারে জ্বলজ্বল করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। সেই সঙ্গে সকলকে ব্রিগেডে শপথ অনুষ্ঠানে সামিল হওয়ার জন্য আমন্ত্রণের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিজেপি এবং সিপিএম আদর্শগত ভাবে দুই বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক দল। ডানপন্থী বিজেপি সরকারের বিজ্ঞাপন বামপন্থী দলের মুখপত্রে প্রকাশ করা নিয়ে সমাজা মাধ্যমে অনেকে সমালোচনাও করছেন। যদিও সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, আদর্শগত লড়াইয়ে কোনও আপোষ করা হবে না। কারণ সরকার ও দল দুটি আলাদা বিষয়। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের দলীয় মুখপত্রকে বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করলে আদালতে মামলাও করেছিল বাম দলটি। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। তবে ২০২৬ সালে সরকারি বিজ্ঞাপইন পাওয়ায় গণশক্তি আর্থিক ভাবে কিছুটা লাভবান হবে বলে মত বাম কর্মীদের।
বিজেপি সরকারের বিজ্ঞাপন পাওয়া নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেই স্বৈরাচার দেখানো শুরু করেছিলেন। বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। লাইব্রেরিতে কোন সংবাদপত্র রাখা হবে, তা নিয়েও নিদান দিয়েছিলেন। সেটাকে গত ১৫ বছরে নিয়মে পরিণত করেছিলেন। আজকের বিজ্ঞাপন কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। এটাই হওয়া উচিত।’