ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশকে ঘিরে দিনভর ছিল জোর জল্পনা। বিশেষ করে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছিল। সেই আবহেই বিধানসভায় বাজেট পেশ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য ডিএ বৃদ্ধির পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সরকারি কর্মীদের জন্য স্বস্তির বার্তা এসেছে, তেমনই সাধারণ মানুষের জন্যও একাধিক প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজেটে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে ডিএ নিয়ে আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের আবহে এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে বলেই আশা প্রশাসনের। ডিএ বৃদ্ধির ফলে রাজ্য কোষাগারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়লেও কর্মীদের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।
এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে নারীকল্যাণমূলক প্রকল্প। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মহিলা সরাসরি উপকৃত হবেন। পরিবারগুলির আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানো, মহিলাদের হাতে আরও বেশি অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার কথাও জানানো হয়েছে।
শুধু সামাজিক সুরক্ষা নয়, কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাজেট বক্তৃতায় নতুন শিল্পনীতি আনার কথা জানানো হয়েছে। শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাই হবে এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্য। শিল্পমহলের দীর্ঘদিনের কিছু দাবিও বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্যও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের গতি বাড়ানো, শহরাঞ্চলে নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পগুলির আওতা বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বাজেটে রাজ্যের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি সরকারের।
বাজেট পেশের পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে প্রতিক্রিয়া। শাসকদলের দাবি, এই বাজেট সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জনমোহিনী প্রকল্প ও আর্থিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। তবে সব বিতর্কের মধ্যেও সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি এবং নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পে বড় বরাদ্দই এবারের বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।