ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জোরালো বিতর্কের মধ্যেই বিষয়টি পৌঁছেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। সোমবার এই সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি করতে চলেছে দেশের শীর্ষ আদালত, যা রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মামলাগুলিতে মূলত প্রশ্ন তোলা হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি ও সময়সীমা নিয়ে। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করে ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়ায় বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। ফলে তাঁরা আর চলতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একাধিক আবেদনকারী।
আদালতে দায়ের হওয়া আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত যাচাই না করেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও আবেদনকারীদের বক্তব্য। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত বিধি মেনেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তিও করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, একটি নির্ভুল ও আপডেটেড ভোটার তালিকা তৈরি করাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল।
এদিকে, এই গোটা বিতর্কের মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। মালদহ জেলায় এস আই আর প্রক্রিয়ায় যুক্ত আধিকারিকদের ঘেরাও করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নও সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে সর্বোচ্চ আদালত এবং ইতিমধ্যেই তদন্তভার দেওয়া হয়েছে জাতীয় তদন্ত কারী সংস্থাকে। ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে লক্ষ লক্ষ দাবি ও আপত্তি জমা পড়েছিল ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে, যার মধ্যে অনেকগুলির নিষ্পত্তি করা হলেও এখনও বহু মানুষের নাম তালিকায় না থাকা নিয়ে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।