ওঙ্কার ডেস্কঃ বাংলায় বিধানসভা ভোটের আগে শাসক দলের প্রকল্পের প্রচারকে লঘু করতে তৈরি পদ্মশিবির। মমতার লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে আগেও সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। এবার ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর চেয়ে বেশি অর্থমূল্যের প্রকল্প ঘোষণা করা হবে, রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতা এই আশ্বাস শুনিয়েছেন। কিন্তু তাতে কতটা কাজ হচ্ছে বাংলায়, তা নিয়ে নিশ্চিত নন বিজেপি শিবির। সেকারণেই কেন্দ্র সরকার কী কী দিয়েছে, সেই হিসাব তুলে ধরে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পাঁচ বছরে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বাবদ কত পেয়েছেন আর কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে কত পেয়েছেন, সেই খতিয়ান ৬৪ লক্ষ পরিবারের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ এসেছে দিল্লি থেকে।
এই বিষয়ে রাজ্য ও জেলা স্তরের টিমকে ডেকে বিধাননগরে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী। সেই বৈঠকেই ৬৪ লক্ষ পরিবারের দরজায় পৌঁছোনোর নির্দেশ জারি হয়েছে। ৬৪ লক্ষ পরিবার মানে প্রায় ২ কোটি ভোটার। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে এই ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এভাবে যদি মানুষের ভোট বিজেপির খাতায় জমা হয়, তাহলেই ভোটের হিসাব বদলে যাবে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, বাংলায় ‘লাভার্থী সম্পর্ক অভিযান’ শুরু করছে বিজেপি। তার জন্য আলাদা কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছে। জেলাভিত্তিক ‘টিম’ গঠন করা হয়েছে। এবার তাদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পালা।
বঙ্গ বিজেপি সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা কারা পেয়েছেন, সে তালিকা বনসলই তৈরি করিয়ে এনেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার সে তালিকা তৈরি করে পাঠিয়েছে, না কি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পরামর্শদাতা হিসাবে কর্মরত একটি সংস্থা তা তৈরি করেছে, সেটি স্পষ্ট নয়। তবে পদ্মশিবিরের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ৮২ লক্ষের মতো পরিবার নানা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। তার মধ্যে ১৮ লক্ষের মতো পরিবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।
কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের দাবি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তীসগঢ় এই তিন রাজ্যে ‘লাভার্থী সম্পর্ক অভিযান’-ই বিজেপির ‘জয়ের কারিগর’। তাই ভোটের আগে বাংলাতেও এই অভিযান কার্যকর করতে চাইয় বিজেপি।
