ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট থানার পূর্ব দুরামারী গ্রামে পরপর তিন দিনে একই পরিবারের তিন সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে এক গৃহবধূর খুন, তারপর তাঁর স্বামীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার এবং শেষ পর্যন্ত ওই মহিলার দেওরের আত্মহত্যা এই ধারাবাহিক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এবং দেওর-বউদির কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে মরাঘাট জঙ্গল সংলগ্ন এলাকা থেকে ৪০ বছর বয়সি চুমকি রায়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তাঁর স্বামী বিমল রায়। স্ত্রীকে খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাতভর বিমলের খোঁজ চালান। পরদিন, বৃহস্পতিবার সকালে একই জঙ্গল থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বিমলের দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রীকে খুন করার পর অপরাধবোধ বা মানসিক চাপে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় আরও চাঞ্চল্য ছড়ায় শুক্রবার সকালে। বিমল রায়ের ভাই সনাতন রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় গ্রামের শ্মশান থেকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের দিন ওই শ্মশানেই বিমল ও চুমকির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরেই চুমকি রায় ও তাঁর দেওর সনাতন রায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে অশান্তি চলছিল। নিহত দম্পতির ১৪ বছর বয়সি ছেলে পুলিশকে জানিয়েছে, এই সম্পর্ক নিয়ে তার বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই বচসা ও অশান্তি হত। বুধবারও সেই অশান্তি চরমে পৌঁছেছিল বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে বিমল একটি ভয়েস মেসেজে স্ত্রীকে খুন করে নিজেও আত্মহত্যা করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই ভয়েস মেসেজটি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, আত্মহত্যার আগে সনাতন রায় নিজের সামাজিক মাধ্যমে চুমকি রায়ের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ের একান্ত মুহূর্তের একাধিক ছবি পোস্ট করেছিলেন। তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্ট, ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।