ওঙ্কার ডেস্ক: জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা উপলক্ষে দিঘার জগন্নাথ ধামে মহাসমারোহে পালিত হল প্রভু জগন্নাথদেবের ঐতিহ্যবাহী স্নানযাত্রা। ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নামে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের নানা রাজ্য থেকেও বহু পুণ্যার্থী এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দিঘায় পৌঁছান। ধর্মীয় উৎসাহ, ভক্তি এবং উৎসবের আবহে দিনভর মুখর ছিল গোটা জগন্নাথ ধাম এলাকা।
শাস্ত্রবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময়ে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা এবং সুদর্শন চক্রকে গর্ভগৃহ থেকে বিশেষ শোভাযাত্রার মাধ্যমে স্নানবেদিতে নিয়ে আসা হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টা ও কীর্তনের মধ্য দিয়ে দেববিগ্রহের মহাস্নান সম্পন্ন হয়। পবিত্র জল, সুগন্ধি দ্রব্য ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ পর্ব সম্পন্ন করেন সেবায়েতরা। স্নানযাত্রা উপলক্ষে দেবতাদের বিশেষ সাজে সজ্জিত করা হয়, যা দর্শনের জন্য ভক্তদের মধ্যে ছিল প্রবল উৎসাহ।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহাস্নানের পর প্রভু জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই স্নানযাত্রার পর শুরু হয় ‘অনসর’ পর্ব। এই সময় দেবতারা নির্জনে বিশ্রামে থাকেন এবং সাধারণ ভক্তদের জন্য মূল বিগ্রহের দর্শন বন্ধ থাকে। সেবায়েতরা বিশেষ নিয়মে দেবতাদের সেবা ও পরিচর্যা করেন। অনসর পর্ব শেষ হওয়ার পর নবযৌবন দর্শনের মাধ্যমে পুনরায় ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হন মহাপ্রভু। এরপরই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত রথযাত্রা উৎসব।
স্নানযাত্রা উপলক্ষে মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নজিরবিহীন। পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা যৌথভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য পৃথক পথ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং বিশ্রামের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোটা এলাকা জুড়ে কড়া নজরদারিও চালানো হয়।