ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও যোগাযোগপথ শিলিগুড়ি-মিরিক সড়কে স্বস্তি ফিরল মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই। প্রবল বর্ষণ ও বালাসন নদীর ফুলেফেঁপে ওঠা জলস্রোতের জেরে দুধিয়া এলাকার সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় গত কয়েকদিন ধরে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এই রুট। ফলে নিত্যযাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। তবে সেনাবাহিনীর দ্রুত উদ্যোগ ও নিরলস পরিশ্রমে অল্প সময়ের মধ্যেই একটি অস্থায়ী বেইলি সেতু নির্মাণ করে ফের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ জুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বালাসন নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নদীর তীব্র স্রোতে দুধিয়া এলাকায় থাকা অস্থায়ী সেতুর একটি বড় অংশ ভেসে যায়। এর জেরে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকগামী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। বহু মানুষকে দীর্ঘপথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছতে হয় এবং পর্যটন শিল্পেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। সীমিত সময়ের মধ্যে কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই একটি ৩৪ মিটার দীর্ঘ অস্থায়ী বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়। দিনরাত এক করে চলা এই কাজে সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও তৎপরতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
নতুন সেতুটি চালু হওয়ার ফলে আপাতত পথচারীদের যাতায়াতের সমস্যা অনেকটাই মিটেছে। শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়া পর্যন্ত গাড়িতে এসে যাত্রীরা সেতু পার হয়ে অপর প্রান্তে পৌঁছে আবার যানবাহনে চেপে মিরিক কিংবা সংলগ্ন এলাকায় যেতে পারছেন। এর ফলে কয়েকদিন ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পথচারীদের জন্য অস্থায়ী সেতু চালু করা হলেও ভবিষ্যতে যানবাহন চলাচলের উপযোগী আরও শক্তপোক্ত বেইলি সেতু নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। সেই সেতু সম্পূর্ণ হলে শিলিগুড়ি-মিরিক রুটে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বালাসন নদীর ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে অতীতেও দুধিয়া এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এবারের বিপর্যয়ের পর সেনাবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অল্প সময়ে বিকল্প সেতু নির্মাণের ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। একইসঙ্গে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত বহু মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কারণ বর্ষাকালেও মিরিক ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াত অব্যাহত থাকে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে।