ওঙ্কার ডেস্ক: নির্বাচনের প্রস্তুতিতে শহুরে ভোটারদের সুবিধা দিতে নতুন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও আবাসনে যদি ভোটারের সংখ্যা ৩০০ বা তার বেশি হয়, তাহলে সেই আবাসনের মধ্যেই ভোটগ্রহণ কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। মূলত বহুতল আবাসন ও বড় হাউজিং কমপ্লেক্সগুলিকে মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, শহরের বহু ভোটারকে ভোট দিতে যেতে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। বিশেষ করে প্রবীণ, অসুস্থ কিংবা কর্মরত ভোটারদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট। সেই কারণে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও অংশগ্রহণমূলক করতে আবাসনের মধ্যেই বুথ বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, এতে ভোটদানের হার বাড়বে এবং শহুরে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সূত্রের খবর, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই এমন বেশ কয়েকটি আবাসন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত জায়গা, ভোটারদের প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেই বুথ স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আবাসনের বাসিন্দা সমিতির সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতো করে মতামত দিচ্ছে। কেউ বলছে, এতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে, আবার কারও আশঙ্কা, ব্যক্তিগত আবাসনের মধ্যে বুথ বসালে নিরপেক্ষতা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভোটের গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনওরকম আপস করা হবে না।
কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, আগের নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতা থেকেই এই পদক্ষেপের ভাবনা এসেছে। শহরের বড় আবাসনগুলিতে ভোটার সংখ্যা বেশি হলেও অনেক ক্ষেত্রে বুথ দূরে হওয়ায় ভোটদানে অনীহা দেখা যায়। সেই সমস্যা দূর করতেই এই উদ্যোগ। আগামী নির্বাচনে এই নতুন ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
