ওঙ্কার ডেস্ক ; জেলায় জেলায় শুরু হয়ে গেছে ট্রাইব্যুনালের কাজ । জেলা শাসকের দফতরে চলছে ফর্ম জমা দেওয়ার কাজ। প্রায় সব জেলাতেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে ভোটারদের লম্বা লাইন। কোথাও কোথাও আবার অশান্তির খবরও উঠে এসেছে। তবে সব জায়গাতেই অশান্তি এড়াতে কম বেশি মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ।
একদিকে যখন ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত গ্রামে অভিষেকের ভোট প্রচার ঠিক সেই সময় জলপাইগুড়িতে সংখ্যালঘুদের লম্বা লাইন ট্রাইব্যুনালে আবেদনের। ভোটার তালিকায় নাম বাদ। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে জলপাইগুড়িতে উপচে পড়ছে ডিলিটেড ভোটারদের ভিড়। গতকালের পর আজ সকালে জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসে ট্রাইব্যুনালের জন্য আবেদনের জন্য লম্বা লাইন।
ভিড় সামলাতে নামানো হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ডিলিটেড ভোটারদের কারো দাবি, তাঁকে শুনানিতে ডাকাই হয়নি। অথচ নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারো আবার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিচ্ছেন। ২০০২ সালেও ভোট দিয়েছেন। অথচ নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের আবেদনের জন্য লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু। অপরদিকে সোমবার ট্রাইব্যুনালের ফ্রম জমা করার জন্য পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাসক দপ্তরে রিসিভিং সেকশন খুলে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে মানুষ এসে দাঁড়িয়ে আছে। ভোটাধিকার ফেরত পেতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন পত্র জমা দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে শতাধিক ভোটাধিকার হারানো মানুষ। জেলা শাসকের দপ্তরে লম্বা চলাইন, কিন্তু আজকে সকাল সকাল অফিস খুলে যাওয়ায় খুশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে আসা মানুষজন। তারা বলছে দুর-দূরান্ত থেকে এসে ভোর থেকে লাইন দিয়ে আছে। কেউ আবার জেনেশুনে এসেছে কেউ না জেনেই লাইন দিয়ে আছে। অবাঞ্চিত ঘটনা যাতে না ঘটে সেইজন্য স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
একই চিত্র ক্যানিংয়েও সকাল হতেই শুরু হয়েছে দৌড়াদৌড়ি—এক দফতর থেকে আরেক দফতর, এক লাইনের পর আরেক লাইন। ক্যানিং মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে মঙ্গলবার যেন তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ম্যারাথনের ছবি। তবে এই দৌড় কোনও পুরস্কারের জন্য নয়, নিজের নামটা ভোটার তালিকায় নিশ্চিত করার লড়াই।সোমবার ট্রাইবুনালে আবেদন জমা দেওয়ার পর আজ সেই নাম তালিকায় উঠেছে কিনা তা দেখতে ভোর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন হাজার হাজার মানুষ। তালিকা টাঙানোর অপেক্ষায় রোদে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের মুখে একটাই প্রশ্ন—“নামটা উঠল তো?”