বাবলু প্রামানিক দক্ষিণ ২৪ পরগনা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলী বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে। বিজেপির প্রার্থী মাধবী হালদারকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে জোরদার প্রচার, আর নিজেকে “কুলতলির ভূমিকন্যা” হিসেবে তুলে ধরে সরাসরি মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি।প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মাধবী হালদার মাঠে নেমে পড়ে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন এবং কুলতলির উন্নয়নে বিজেপির সম্ভাব্য কর্মসূচির রূপরেখাও দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে কুলতলিতে শিল্প কারখানা, রাইস মিল গড়ে তোলা হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত মানের হাসপাতাল তৈরি করা হবে।বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, কুলতলিতে উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থার অভাব রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ রোগী বা প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসার জন্য বারুইপুর বা কলকাতায় যেতে হয়, যেখানে বেড পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। একইভাবে শিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি বলেন, ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের বাইরে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে।কর্মসংস্থানের অভাব নিয়েও তিনি সরব হন। তাঁর দাবি, কুলতলির বহু যুবক-যুবতী কাজের খোঁজে প্রবাসে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, প্রবাস জীবনের কষ্ট তিনি কাছ থেকে দেখেছেন।এছাড়াও এলাকার রাস্তা-ঘাটের দুরবস্থা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “১০০% উন্নয়ন” দাবি করা হলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, এমনকি চারচাকা গাড়ি ঢোকাও কঠিন।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও তিনি একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের উন্নয়নের বদলে ব্যক্তিগত উন্নয়নই বেশি হয়েছে, এবং এক প্রাক্তন বিধায়কের বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।সবশেষে কুলতলির মানুষকে উদ্দেশ্য করে মাধবী হালদার আবেদন জানান, “আপনারা আপনাদের ঘরের মেয়েকে একবার সুযোগ দিন, আমি আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।”
কুলতলী বিধানসভা কেন্দ্রের এই লড়াইয়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো—এই তিনটি বিষয়ই যে বড় ইস্যু হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, ভোটের বাক্সে এর প্রতিফলন কীভাবে পড়ে।