নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি: প্রচারের বেরিয়ে মুখোমুখি ডান ও বাম প্রার্থী, দুজনে হাত মিলিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তুললে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করলেন সমীর, বলল সৌজন্য। বাম বললো “অতিথি দেবোও ভব”। সোমবার পান্ডুয়া বিধানসভার জামনা অঞ্চলে প্রচার করতে যান তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী ও বাম প্রার্থী আমজাদ হোসেন। একসময় দুজনেই মুখোমুখি হয়ে করেন। সেই ছবি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী। দুজনে হাত মেলান এবং পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন।
তৃণমূল প্রার্থী সমীর বলেন, ২০১৬ সালে আমিও বিধায়ক ছিলাম তিনিও বিধায়ক ছিলেন । আমাদের দুজনের দীর্ঘদিনের একটা ভালো সম্পর্ক।তবে তার নীতি আদর্শ আলাদা হতে পারে। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল আগামী দিনেও থাকবে। আমি চাই পান্ডুয়ার মানুষের কোন অশান্তি না হয় ,শান্তি বিরাজ করুক ।সেটাই আমি তাকে দাঁড় করিয়ে বলেছি। আমি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি , ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে । দুজনে এলাকায় শান্তি বজায় রাখবো। এখানে কোন ধর্মীয় বিভাজন হবে না। পান্ডুয়া নতুন পথ দেখাবে সারা বাংলাকে । এটা একটা সৌজন্য সাক্ষাৎকারের অঙ্গ । আমি প্রচার করছিলাম সে সময় তিনিও তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচার করছিলেন। আমার নৈতিক দায়িত্ব তাদের কাছেও ভোট ভিক্ষা করা । সিপিএমের সমর্থকদের বলবো এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে হবে ।ধর্মীয় বিভাজনে যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে আওয়াজ তুলতে হবে। পশ্চিমবাংলা ধর্মনিরপেক্ষ রাজ্য। সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলব আমার নৈতিক দায়িত্ব।
সিপিএম প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা ভারতবর্ষ পশ্চিম বাংলার মানুষ আমাদের রক্তের বিন্দুতে বিন্দুতে বাঙালিয়ানা প্রবেশ করে আছে। উনি আমাদের পান্ডুয়ায় এসেছেন বাঁকুড়া বিধাননগর হয়ে তাই “অতিথি দেব ও ভব”। তার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেছেন তিনি আমাদের অতিথি। যাতে সৌজন্যে ঘাটতি না হয় সেটাও দেখতে বলেছি। গত পাঁচ বছরে মানুষ কতটা যন্ত্রনা পেয়েছে সেটা বুঝতে পেরেছে আর গত ১০ বছরের মানুষ কতটা পরিষেবা পেয়েছে লাল ঝান্ডার সেটা বুঝে গেছে। শুধু সময়ের অপেক্ষা, পান্ডুয়ার মানুষ লাল ঝান্ডটাকে ভোট দেবার জন্য রেডি হয়ে আছে।
এলাকার ভূমিপুত্র আমজাদ দীর্ঘদিনের পোর খাওয়া রাজনীতিবিদ আমজাদ। এবারও তার উপরেই ভরসা রেখেছে তার দল ।প্রবল তৃণমূল হওয়ায় ২০১১ ও ১৬ সালে পান্ডুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করে বাম প্রার্থী। ২০২১ এর পর সেই আসন ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। তৃণমূল প্রার্থী ডক্টর রত্না দে নাগের কাছে হারতে হয়েছিল আমজাদকে। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় আমজাদ কে প্রার্থী করেছে দল। প্রার্থী হবার পর থেকেই প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী তিনিও পোর খাওয়া রাজনীতিবিদ, সুবক্তা।