ওঙ্কার ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান। বেশিরভাগ বিধায়কেরাই বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরে। অন্যদিকে, মমতার পাশে আছেন, হাতে গোনা কয়েকজন। দলে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের অন্দরেও যে বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গ রয়েছে, সে দাবি করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিদ্রোহী শিবিরের বহু বিধায়কই এখন আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেতা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না বলেই মত তাঁর। কেন তাঁরা ঋতব্রতের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তার সপক্ষে একাধিক যুক্তি সাজিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
ওবিসি সংরক্ষণ বিলে ভোটাভুটি নিয়েই বিদ্রোহী শিবিরে যে ফাটল ধরেছে তাঁর প্রমাণ মিলেছে। বিধানসভার অন্দরে ওবিসি সংরক্ষণ বিলে ভোটাভুটি নিয়ে জট পেকেছে। তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে কালীঘাট শিবির ভোট দান থেকে বিরত ছিলেন। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির ওয়াক আউট করেন। কিন্তু দেখা যায়, বিদ্রোহী শিবিরের বেহস কিছু বিধায়ক ওয়াক আউট না করে বসেই ছিলেন।
বিদ্রোহী শিবিরের অন্দরের ক্ষোভের কারণ ফাঁস করে কুণাল ঘোষ বলেন, “ওঁদের অনেককেই এই আশ্বাস দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে, ওদিকের শিবিরে গেলে পুলিশ আর হেনস্থা করবে না। কিন্তু যাঁদের গায়ে প্রকৃত তৃণমূলের রক্ত রয়েছে, তাঁরা আর ঋতব্রতকে নেতা বলে মানছে না।’
পাশাপাশি ভোটাভুটি নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কালীঘাট শিবির সম্পূর্ণ কৌশলগত কারণে ভোটদান থেকে বিরত ছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেল, আমাদের বাইরেও আরও ২০ জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন। এতেই প্রমাণিত হয় যে, অনেকেই এখন আর ঋতব্রতের নির্দেশ মানছেন না।”
কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন আর একটি বিশেষ দৃশ্য দেখে তাঁর মন ভাল হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, “হাউসের ভিতরে আমি যখন প্রথা মেনে ঋতব্রতকে একের পর এক তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক আক্রমণ শানাচ্ছিলাম, তখন আশ্চর্যের বিষয় হল, বিরোধী দলনেতার সমর্থনে সেই বিদ্রোহী শিবিরের একটা বিধায়কও উঠে দাঁড়াননি। কেউ তাঁর পাশে এসে বসেননি বা চিৎকার করেননি। এই দৃশ্যটা দেখে আমার সত্যিই খুব ভাল লেগেছে।”