ওঙ্কার ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের ডোমকলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্থানীয় এক তৃণমূল নেত্রীর স্বামী শরিফুল ইসলামকে। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নামে বরাদ্দ হওয়া অর্থ বেআইনিভাবে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে তা তুলে নেওয়া হত। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আর্থিক অনিয়মের তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি প্রকল্পের অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত কিছু অসঙ্গতি নজরে আসে প্রশাসনের। তদন্ত শুরু হতেই দেখা যায়, কয়েকটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে নিয়মিতভাবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা জমা পড়ছে। অথচ সেই অ্যাকাউন্টগুলির প্রকৃত উপভোক্তাদের পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেনের মধ্যে বিস্তর গরমিল রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই টাকা শেষ পর্যন্ত শরিফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণেই পৌঁছত এবং সেখান থেকে তা তোলা হত।
প্রাথমিকভাবে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা জেরায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদনও জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। ফলে গোটা ঘটনার নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও দুর্নীতির জাল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের স্ত্রী সাহানা বিশ্বাস ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। ঘটনার পর তিনি জানিয়েছেন, এর আগেও শরিফুল ইসলামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা জমা পড়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় প্রশাসনের তরফে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অন্য অ্যাকাউন্টগুলিতে একই ধরনের লেনদেনের অভিযোগ সামনে আসে। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা বা জ্ঞান নেই।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, শরিফুল ইসলাম একটি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র বা সিএসপি পরিচালনা করতেন। সেই কেন্দ্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আর্থিক পরিষেবা সংক্রান্ত কাজকর্ম পরিচালিত হত। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ওই পরিষেবা কেন্দ্রকে ব্যবহার করেই কি সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের এই চক্র গড়ে তোলা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য এবং ডিজিটাল রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে।