ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে চিকিৎসা ব্যাবস্থার হাল ফেরাতে একাধিক গুরুত্বপুর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণে অগ্রসর বাংলায় নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থার অবসান ঘটাতে বড়সড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এসএসকেএম হাসপাতালে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো, পরিষেবা, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষকর্তা, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতাল সুপার এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী পরিষেবার মান উন্নয়ন এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীদের চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি কমে। একইসঙ্গে হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে শয্যা খালি আছে কিনা, কতগুলি বেড উপলব্ধ, তার সঠিক তথ্য ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রোগী ও পরিজনদের বিভ্রান্তি কমবে এবং পরিষেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে।
হাসপাতালে সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে হাসপাতালের প্রতিটি কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র চালু করতে হবে। বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। হাসপাতাল চত্বরে রোগী ভর্তির নামে দুর্নীতি, বেড পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা বা অযথা রেফার বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে স্বাস্থ্যভবনে একটি বিশেষ ‘ওয়াররুম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ওয়াররুম থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলির সার্বিক পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজরদারি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও থাকবে এই ওয়াররুমের সরাসরি সংযোগ, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
রোগী পরিবহণ ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে সরকার। অ্যাপ-ভিত্তিক অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু করা হবে, যেখানে প্রতিটি অ্যাম্বুল্যান্সে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকবে। ফলে রোগী পরিবহণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, সময়মতো পরিষেবা নিশ্চিত হবে এবং বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা দালালচক্রের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক, ইন্টার্ন ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে নজরদারি বৃদ্ধি, বহিরাগত প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির ভূমিকা নিয়েও সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। খুব শীঘ্রই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সংরক্ষিত ১৫ শতাংশ বেড সাধারণ মানুষের জন্য যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি সুবিধা নিয়ে পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে জনস্বার্থে আরও দায়বদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনমুখী করে তুলতেই এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। বহুদিনের অভিযোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে।