ওঙ্কার ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার সাতসকালেই ইডি অভিযান নিয়ে টান টান উত্তেজনা। আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সেক্টর ফাইভে সংস্থার অফিসে হানা দেয় ইডি। সেই তল্লাশি অভিযান চলাকালীনই লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন নগরপাল মনোজ ভার্মা। নগরপাল যাওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে যান তিনি। কিছুক্ষণ পরেই বেরিয়ে আসতে দেখা যায় তাঁকে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রকাশ জৈনের বাড়িতে ঢোকার সময় মুখ্যমন্ত্রীর হাত ফাঁকা থাকলেও বেরোনোর সময় তাঁর হাতে সবুজ ফাইল, হার্ড ডিস্ক এবং একটি ল্যাপটপ দেখা যায়।
প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা। তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন, এবং আই প্যাকের অফিসে ইডি হানার মূল উদ্দেশ্য তৃণমূলের গোপন নথি হাতিয়ে নেওয়া। দলের প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি।
মমতা বলেন, “এই অভিযান দুর্ভাগ্যজনক। আমার আইটি দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে। দলের সব গোপন নথি এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতে ইডিকে দিয়ে হামলা করিয়েছেন হোম মিনিস্টার। রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কোনও নথি ছাড়া ভোটারদের সন্দেহ করা হচ্ছে। খালি ষড়যন্ত্র করছে। আমার দলের গোপন তথ্য জানার জন্য আই প্যাক অফিসে হানা। আমি যদি বিজেপি অফিসে হানা দিই।” ফাইল সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দলের কিছু ফাইল এবং হার্ড ডিস্ক নিয়ে যাচ্ছি।
প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি অনেক প্রশ্ন তুলছে। এই ঘটনার সঙ্গে ৫ বছর আগে তৎকালীন পুলিশ সুপার রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশির মিল রয়েছে। সে সময় ধরণায় বসলেও এবার মুখ্যমন্ত্রী ধরনার পথে হাঁটেননি। দলের নথি নিয়ে বেরিয়ে যান। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “মুখ্যমন্ত্রী আসলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন। এটা অনৈতিক, অসাংবিধানিক। ইডির উচিত সংবিধান মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া”।
