ওঙ্কার ডেস্ক: ফিকে হয়ে যাচ্ছে লাল সূর্য। যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা থেকে পালিয়েছিলেন মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা। বঙ্গে তাঁর আত্মগোপন নিয়ে চর্চার মাঝেই বুধবার সকালে লালবাজারে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন মাও বঙ্গ ব্রিগেডের সদস্য, সিপিআই মাওবাদী-র জোনাল কমিটির এই সদস্য। তাঁর মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা। জানা গিয়েছে একদা জঙ্গলমহলের ত্রাস পুস্পা নিজের অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। একাধিক মাও অভিযানের মাস্টারমাইন্ড এই নেত্রী। আত্মসমর্পণের সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের যারা এখনও বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন তাঁরা চেষ্টা করুন মূল স্রোতে ফিরে আসার। বর্তমান সরকার অনেক ভালো কাজ করছে। অস্ত্র ছেড়ে উন্নয়নে শামিল হওয়াই সকলের জন্য মঙ্গলের।’ ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার মেছুয়া গ্রামের মেয়ে শকুন্তলা। মাওবাদী স্কোয়াডে পা রাখার পর পরি, বর্ষা, পুষ্পা-র মতো একাধিক নামে পরিচিত হন তিনি। মাও স্কোয়াডে চার-চারটি নাম নিয়ে কাজ করলেও বাড়ির কাছে তিনি ‘লুটুন’। তিনি যে আত্মসমর্পণ করতে পারেন তা নিয়ে চর্চা চলছিল। মাত্র ১০ বছর বয়সে মাওবাদী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন লুটুন। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও হাই স্কুলে পা রাখেননি তিনি। নকশাল সংগঠনে গান-বাজনা করতে করতেই হাতে তুলে নিয়েছিল বন্দুক। বিভোর হয়ে যান সমাজ বদলানোর স্বপ্নে। তখন বাম আমলে শকুন্তলাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। তাই বনপার্টিরা তাঁকে বর্তমান ঝাড়খণ্ডের পরেশনাথ পাহাড়ে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সংগঠনের কাজে আবার তাঁকে বাংলায় নিয়ে আসে।
উল্লেখ্য, এর আগে অনেক যৌথ বাহিনীর গুলিতে মারা গিয়েছিলেন মাও নেতা গণেশ উইকে। শকুন্তলা মূলত সারান্ডা জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। ঝাড়গ্রাম ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন থানা এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতামূলক কাজের অভিযোগ ছিল। ঝাড়খণ্ড পুলিশের খাতায় তিনি মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর মাথার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁর বাড়িতে আদালতে হাজিরার নোটিশও সাঁটিয়ে দিয়েছিল। ২০০৩ সালে এই ঝাড়গ্রামে স্কোয়াডে থাকাকালীন এরিয়া কমান্ডার অতুল মাহাতোর সঙ্গে আলাপ হয়। ২০০৪-এ এমসিসি ও জনযুদ্ধ গোষ্ঠী মিলে গঠিত হয় সিপিআই (মাওবাদী)। ২০০৫-এ ঝাড়খণ্ডের তামাড় জঙ্গলে অতুলের সঙ্গে বিয়ে হয় শকুন্তলার। তিনি অবশেষে মূলস্রোতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং কলকাতা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।