ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড় রাজনৈতিক অস্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন। বুধবার রাতে নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সমস্ত সম্পর্কের ইতি টানছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তেই ক্ষোভ তৈরি হয় রাজ্জাকের মধ্যে। গত কয়েকদিন ধরেই তিনি প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন। অবশেষে টিকিট না পাওয়াকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়ে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্জাক দলের অন্দরের একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে দলে আদর্শ বা সততার কোনও গুরুত্ব নেই, বরং প্রার্থী নির্বাচনে অর্থ ও প্রভাবই বড় ভূমিকা নিচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জলঙ্গি-সহ মুর্শিদাবাদের একাধিক কেন্দ্রে বহিরাগত প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।
একইসঙ্গে তিনি রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, তাঁর বিরোধিতার জেরেই তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি। যদিও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী। বিষয়টি ঘিরে জেলা রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই দলত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরেই দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন এবং বিরোধী শিবিরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। ফলে তাঁর দলত্যাগে সংগঠনের কোনও ক্ষতি হবে না বলেই দাবি শাসকদলের।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে, দল ছাড়ার পর রাজ্জাক কোন দলে যোগ দিতে পারেন। কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি। নির্বাচনের আগে এই ঘটনা শাসকদলের অন্দরের অসন্তোষকে সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ভোটের মুখে এই ধরনের দলীয় কোন্দল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।