ওঙ্কার ডেস্কঃ বাংলায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় নয়া পরিকল্পনা। এবার আমেরিকার ধাঁচে বাংলায় হবে, ওয়ান হেল্থ সিস্টেম। বার্ড ফ্লু থেকে ইবোলা, রেবিস, লেপটোস্পাইরোসিস, করোনা, ব্রুসলিস একাধিক প্রাণঘাতী রোগের সংক্রমণ মানুষের দ্বারা সংক্রমিত হয় না। সংক্রমিত হয় অন্যান্য প্রাণীদের থেকে। এবার এই রোগ শৃঙ্খল ভাঙার অভিনব প্রকল্প করছে রাজ্য। সব ধরনের গবেষক-চিকিৎসক সংযুক্ত করে টিম বানিয়েছে রাজ্য সরকার।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে ইনস্টিটিউট হেল্থ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। যেখানে জনস্বাস্থ্য চিকিৎসক থেকে পশু চিকিৎসক, কৃষি বিজ্ঞানী থেকে পরিবেশবিদ সকলে উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে আলোচনা হয় যে, সব কিছুই পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত। মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ এই তিনটি বিচ্ছিন্ন কোনও বিষয় নয়। তাই ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধ করতে হলে সমস্ত দপ্তরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি ওয়ান হেল্থ সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।
জানা গিয়েছে, মানুষের মধ্যে ব্যাপক হারে বাড়ছে স্ক্রাব টাইফাস। এই অসুখের নেপথ্যে রয়েছে মাইট নামক একটি পোকার কামড়। সাধারণত ঝোপেঝাড়ে, জঙ্গলে এই পোকা থাকে। ডা. কৌস্তভ নায়েক জানিয়েছেন, বনদপ্তরের সহযোগিতা না পেলে ভবিষ্যতে এই স্ক্রাব টাইফাস নির্মূল করা সম্ভব নয়।
আবার পোলট্রির মুরগিকে যথেচ্ছভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। সেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে মানুষের শরীরেও। দীর্ঘদিন এই মুরগির মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স গড়ে উঠছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যদপ্তরের পশু পালন বিভাগের সহায়তা দরকার।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাইরোলজিস্ট তথা প্রাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সিদ্ধার্থ জোয়ারদার। সিদ্ধার্থবাবু জানিয়েছেন, চিকিৎসক, পশু চিকিৎসক, কৃষিবিদ, পরিবেশবিদ, বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ- সবাইকে নিয়ে রাজ্যস্তরে ‘ওয়ান হেল্থ কমিটি’ তৈরি এবং ভবিষ্যত অতিমারী, ইমার্জিং ডিজিজ, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা মোকাবিলায় রূপরেখা তৈরি একটা ল্যান্ডমার্ক সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বৈঠক সফল। তৈরি হচ্ছে ব্লু প্রিন্ট।
