নিজস্ব প্রতিনিধি, পুর্ব মেদিনীপুর; এগরার প্রাক্তন বিধায়কের ‘ঘনিষ্ঠে’র কীর্তিতে ক্ষুব্ধ পানিপারুল। ত্রিপল-কম্বলের ‘পাহাড়’ তৃণমূল নেতার বাড়িতে। অভিযুক্ত নেতার নাম শিবশঙ্কর ভারতী, যিনি এগরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তরুণ কুমার মাইতির ‘ডান হাত’ ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামাতে হয় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বন্যায় অথবা যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মাথার ছাদ হারা হলে যে প্লাস্টিক বা ত্রিপলটুকু গরিব মানুষের মাথার শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়, অভিযোগ, সেই সরকারি ত্রিপল এবং কম্বলের স্তূপ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তৃণমূল নেতার বাড়িতেই। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা ২ ব্লকের পানিপারুল বাজার এলাকার ঘটনা। শিবশঙ্কর ভারতী নামে এক তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে হাজার হাজার সরকারি ত্রিপল ও কম্বল উদ্ধারের ঘটনায় এই মুহূর্তে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকার মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে পানিপারুল বাজারের বাসিন্দা তথা তৃণমূল নেতা শিবশঙ্কর ভারতীর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী মজুত করে রাখা ছিল। কিন্তু গোপন সূত্র মারফত সেই খবর পাঁচকান হতেই ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা সাধারণ এলাকাবাসী আজ সকালেই চড়াও হন ওই নেতার বাড়িতে।
ভেতরে ঢুকতেই চোখ চড়কগাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের! ঘরের ভেতর থরে থরে সাজানো রয়েছে কয়েক হাজার সরকারি ত্রিপল ও কম্বল। যে সামগ্রীগুলি সাধারণত আমফান, ইয়াস বা যে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় কিংবা শীতকালে দুঃস্থদের সাহায্যের জন্য সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হয়, তা গরিবের হাতে না পৌঁছে দিব্যি মজুত ছিল নেতার ঘরে।এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে পানিপারুল বাজারে শয়ে শয়ে মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। দুর্নীতি ও চুরির অভিযোগে তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কায় তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় থানায়।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এগরা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি এলাকায় পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে কোনও রকমে ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া সমস্ত সরকারি ত্রিপল ও কম্বল বাজেয়াপ্ত করে গাড়িতে তোলে পুলিশ। বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পানিপারুল বাজার এলাকা।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি সহ বিরোধী শিবির। তাদের বক্তব্য, “তৃণমূলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। রাজ্যে পালা বদলের পর একের পর এক তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে সরকারী সামগ্রী উদ্ধার, পার্টি অফিস থেকে রেশন কার্ড, জব কার্ড উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে এই দুর্নীতির শেকড় কতটা গভীরে ছড়িয়েছিল। গরিবের হকের ত্রিপল ও কম্বল চুরি করে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার ছক কষছিল এরা।”
আপাতত বাজেয়াপ্ত হওয়া সমস্ত সরকারি সামগ্রী এগরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শিবশঙ্কর ভারতীর বাড়িতে আর কোনও সরকারি নথি বা সামগ্রী লুকানো আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এলাকায় এখনও মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী।