ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তৃণমূল দলের অন্দরেই শুরু হয় কোন্দল। এবার দলের অন্দরেই ফের সরব হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দিপন সাহা। গত ২৭ মে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসকে উদ্দেশ্য করে এই যৌথ চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন উলুবেড়িয়া পূর্ব ও এন্টালির বিধায়ক। যার প্রতি পাতায় রয়েছে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মারাত্মক সব জালিয়াতির অভিযোগ। কিছুদিন আগে বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়র নামে একই অভিযোগ করা হয়েছিল। শপথ গ্রহণের দিন তাঁর সই এর সঙ্গে আগে করা সই-র কোনওরকম মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সেই নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছে বিজেপি। চিঠিতে তাঁরা জানিয়েছেন, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত ২০ মে একটি চিঠি স্পিকারকে পাঠান, যার সঙ্গে গত ৬ মে-র একটি দলীয় সভার ‘রেজোলিউশন বুক’ বা প্রস্তাবের প্রতিলিপি যুক্ত ছিল। কিন্তু সন্দীপন ও ঋতব্রতর দাবি, ওই নথিতে যা দেখানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য। ৬ মে এমন কোনও প্রস্তাব পাশই হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, ১৯ মে তাঁদের ডেকে ওই রেজোলিউশন বুকে সই করতে বলা হয়েছিল। সেই নথির ৬০ এবং ৬১ নম্বর সিরিয়ালে তাঁদের সই রয়েছে।
চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ৬ মে-র ওই তথাকথিত বৈঠক সম্পর্কে তাঁদের আগে থেকে কোনও লিখিত সূচি বা আলোচ্য বিষয় জানানো হয়নি। কেবল সই করার জন্যই তাঁদের ওপর নির্দেশ ছিল। চিঠির সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল পদের বিরোধিতা। ঋতব্রত ও সন্দীপন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় ‘বিরোধী দলনেতা’ করার ক্ষেত্রে তাঁরা কোনও সম্মতি দেননি। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁরা আরও একটি মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন। রেজোলিউশন বুকে থাকা বহু বিধায়কের সই আসলে তাঁদের আসল সই নয়। অনেকের নাম স্রেফ বড় হাতের অক্ষরে লিখে পাশে বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ও তারিখ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আইনত জালিয়াতি। ৬ মে-র ওই রেজোলিউশন কপিটি একটি সম্পূর্ণ জাল ও বানোয়াট নথি। তাই স্পিকার যেন অবিলম্বে এই বিষয়টি উপযুক্ত পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান এবং সই ভেরিফিকেশন করিয়ে আইনি তদন্তের ব্যবস্থা করেন।যতক্ষণ না এই সই জালিয়াতির মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ যেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ‘বিরোধী দলনেতা’, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে ‘উপ-দলনেতা’ এবং ফিরহাদ হাকিমকে ‘চিফ হুইপ’ হিসেবে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। আর যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তরজা।